১৪ বছর পর ফের সিনেমায় ফিরছেন রোজিনা
ঢালিউডের চিত্রনায়িকা রোজিনা। তাঁর প্রকৃত নাম রওশন আরা রেনু হলেও সবাই তাকে রোজিনা নামেই চেনেন। একসময় মঞ্চ নাটক করতেন, বিজ্ঞাপন করতেন। হঠাৎ করেই ডাক পান সিনেমার। এরপর বাকিটা ইতিহাস।
রোজিনা রাজবাড়ীর মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই রিকশার পেছনে শাবানা-কবরীর ছবি দেখলেই পিছু নিতেন। তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই সিনেমায় আসেন।
সিনেমার পোকা এসএসসি পাস করতে দেয়নি রোজিনাকে। তার আগেই নায়িকা হয়ে যান তিনি। ১৯৭৭ সালে প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেন। ছবির নাম ‘জানোয়ার’। কালিদাস পরিচালিত এই ছবিতে তিনি ছিলেন অন্যতম নায়িকা। তখনো অবশ্য তিনি রেনু। পরের বছর এ জে মিন্টু সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিলেন ‘মিন্টু আমার নাম’ ছবিতে নায়িকা হচ্ছেন রোজিনা। পরিচালক মহিউদ্দিন রেনুকে রোজিনা বানিয়ে দিলেন। ছবির জন্য দুই মাস মহড়াও হলো। কিন্তু রোজিনা পরে জানলেন, ছবিটায় তিনি নেই। রোজিনা জানিয়েছিলেন, ‘ছবির গল্পে নায়িকার নাম ছিল রোজিনা। পাকিস্তানের একজন সুপারস্টারের নাম ছিল রোজিনা। তাঁর নামেই আমার নাম হয়। কিন্তু ছবিটায় আমার আর অভিনয় করা হয়নি। তত দিনে রোজিনা নামটি চলচ্চিত্রের সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।’
‘রাজমহল’ সিনেমা মুক্তির পর সিনেমাটি সুপারহিট। তারপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি। যে শাবানা ও কবরীকে দেখে নায়িকা হতে চেয়েছিলেন তিনি, তাঁদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করতে শুরু করেন রোজিনা। তিনিও হয়ে ওঠেন ঢালিউডের একজন বড় তারকা। টানা কাজ করতে থাকেন। ১৯৯২ সালে ঘোষণা দেন, চলচ্চিত্রে আর নয়। হাতে থাকা ছবিগুলোর কাজ শেষ করতে করতে ১৯৯৪ সাল পার হয়ে যায়। পরের বছর তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। দীর্ঘ বিরতির পর রোজিনা ২০০৬ সালে চলচ্চিত্রে ফেরেন ‘রাক্ষুসী’ দিয়ে। এরপর তাকে আর দেখা যায়নি।
তবে সোনালি দিনের সেই নায়িকা আবারও ফিরছেন দীর্ঘদিন পর। ১৪ বছর পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছেন তিনি। চলতি অর্থ বছরে অনুদানের সিনেমা ‘ফিরে দেখা’ দিয়েই আবারও পর্দায় আসতে যাচ্ছেন তিনি। মজার বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি এতে কাহিনিকার, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও পাওয়া যাবে তাকে।
রোজিনা বলেন, ‘অভিনয় করেই মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছি। তাই এটাই আমাকে সবচেয়ে টানে। নতুন এ ছবির গল্পটা আমার নানাবাড়ি গোয়ালন্দ ও দাদাবাড়ি রাজবাড়ীর। সেখানকার মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা উঠে আসবে। তাই ছবিটির গল্প ও পরিচালনাটাও আমি করছি।’তিনি আরও জানান, এর কেন্দ্রীয় চরিত্র বকুল হিসেবে থাকছেন তিনি। এছাড়া এতে আরও ৪-৫ জন মুখ্য ভূমিকায় থাকবেন।
গ্রামীণ বা শহুরে নারীর চরিত্র কিংবা সামাজিক অ্যাকশন, সব ধরনের ছবিতেই তিনি সাবলীলভাবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। রোজিনা অভিনীত কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে ‘চোখের মণি’, ‘সুখের সংসার’, ‘সাহেব’, ‘তাসের ঘর’, ‘হিসাব চাই’, ‘বন্ধু আমার’, ‘কসাই’, ‘জীবনধারা’, ‘মানসী’, ‘দোলনা’, ‘দিনকাল’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবনধারা’, ‘রূপবান’, ‘হামসে হ্যায় জামানা’।
তাঁর অভিনয় করা ছবি প্রায় দুই শতাধিক। আমজাদ হোসেনের ‘কসাই’ আর মতিন রহমানের ‘জীবন ধারা’ ছবিতে অভিনয় করে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন রোজিনা। ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানে ‘হাম তো হায় জামানা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য পাকিস্তানের ‘নিগার অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।

Post a Comment