চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা চক্রের হদিশ, গ্রেফতার ৪
কনস্টেবল ও হোমগার্ডে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা চক্রের হর্দিশ পেলো পুলিস। এই চক্রের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রায়না থানার পুলিস। ধৃতদের নাম রাজেন হাজরা, সত্যজিৎ বিট্টার, নাজেম মল্লিক ও শেখ জানারুল ওরফে পিন্টু। বর্ধমান থানার কান্টিয়ায় রাজেন ও সত্যজিৎ-এর বাড়ি।
জামালপুর থানার জানকুলি গ্রামে নাজেমের বাড়ি। অপরজনের বাড়ি বর্ধমান শহরের বাহিরসর্বমঙ্গলা পাড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, কিছুদিন আগে রায়না থানার ভগবতীপুরের বাপ্পাদিত্য পোড়েলের সঙ্গে রাজেনের পরিচয় হয়। সে নিজেকে পুলিসের লোক বলে দাবি করে। বহু বেকারকে সে পুলিসে চাকরি করে দিয়েছে বলে বাপ্পাদিত্যকে জানায় রাজেন। বাপ্পাদিত্যকেও পুলিসে চাকরি করে দেওয়ার টোপ দেয় সে।
চাকরির জন্য ৫ লক্ষ টাকা লাগবে বলে জানায় রাজেন। সেইমতো গত ২৫ জুন বর্ধমানে রাজেনের হাতে ৩ লক্ষ টাকা তুলে দেন বাপ্পাদিত্য। এছাড়াও শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্রও দেন তিনি। দিনকয়েক পর ই-মেলে কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য অ্যাডমিট কার্ড আসে বাপ্পাদিত্যর কাছে। তারপরই বাকি ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় তাঁকে। খোঁজখবর নিয়ে বাপ্পাদিত্য জানতে পারেন, কনস্টেবল পদে নিয়োগ এখন হচ্ছেনা।
যে অ্যাডমিট কার্ডটি পাঠানো হয়েছে সেটি জাল। বিষয়টি বুঝতে না দিয়ে রাজেনকে ধরার জন্য ফাঁদ পাতেন বাপ্পাদিত্য। বাকি টাকা নেওয়ার জন্য সোমবার বিকালে তাকে বর্ধমানে আসার জন্য বলেন তিনি। এরপর ঘটনার কথা লিখিতভাবে রায়না থানায় জানান বাপ্পাদিত্য। টোপ গিলে বর্ধমান শহরের আলিশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি গাড়িতে চেপে রাজেন, সত্যজিৎ ও জানারুল আসে।
সেখানে আগেভাগেই ওৎ পেতে ছিল পুলিস। তারা আসা মাত্র তাদের গাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিস। তল্লাশিতে গাড়ি থেকে কয়েকটি চেক বই, ভূয়ো নিয়োগপত্র, অ্যাডমিট কার্ড, স্ট্যাম্প প্রভৃতি মেলে। জেরায় প্রতারণার কথা স্বীকার করে নেয় রাজেন ও তার দুই সঙ্গী। তাদের সঙ্গে নাজেম জড়িত বলে জানায় ধৃতরা। এরপরই জানকুলি গ্রাম থেকে নাজেমকে ধরে আনে পুলিস।
ধৃতদের কাছ থেকে কনস্টেবল ও হোমগাের্ডর কয়েকটি নিয়োগপত্র, কয়েকটি চাকরির আবেদনপত্র, হোমগাের্ডর পরিচয়পত্র ও স্ট্যাম্প পেয়েছে পুলিস। এছাড়াও বেশ কয়েকটি চেক বই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। ধৃতদের ব্যবহৃত গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বর্ধমান ও আশপাশের জেলায় পুলিস ও হোমগাের্ডর চাকরি দেওয়ার নামে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা ধৃতরা কবুল করেছে বলে পুলিসের দাবি।

Post a Comment