চিনের রক্তচাপ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী দক্ষিণ চিন সাগরে উপস্থিত - The News Lion

চিনের রক্তচাপ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী দক্ষিণ চিন সাগরে উপস্থিত




যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের রক্তচাপ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইতিমধ্যেই দক্ষিণ চিন সাগরে উপস্থিত। শনিবার মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, মুক্ত ও স্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিকের সমর্থনে তাদের ইউএসএস নিমিৎজ ও ইউএসএস রোনাল্ড রিগান দক্ষিণ চিন সাগরে মহড়া ও অভিযান চালিয়েছে।





তাইওয়ান প্রণালীতে রণতরী মোতায়েন সারা বিশ্বে যখন করোনা সংক্রমণে জর্জরিত তখন সীমান্তে উত্তেজনা তৈরিতে ব্যস্ত চিন। তবে শুধু ভারতের লাদাখ নয়, এই সময়ে প্রায় নিয়মিত ভাবে তাইওয়ানের আকাশসীমায় নিজেদের যুদ্ধ বিমান পাঠিয়েছে চিন। এই আবহেই আমেরিকা প্রশান্ত মহাসাগর ও তাইওয়ান প্রণালীতে নিজেদের রণতরী মোতায়েন করেছে।







যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলো সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশেই মহড়া করে। সম্প্রতি ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরীকে একসঙ্গেও দেখা গিয়েছে। বাণিজ্য চুক্তি এবং হংকং নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে বিতর্কিত জলসীমায় ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের পাল্টাপাল্টি মহড়া দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। রণং দেহি মেজাজে আমেরিকা লাদাখে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও রণং দেহি মেজাজে আমেরিকা।







প্রসঙ্গত, বহুদিন ধরেই চিনের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সংঘাত চলছিল। এরপর করোনা পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও খানিকটা যুদ্ধের দিকে ঘণীভূত হতে থাকে। এই বিষয়ে কদিন আগেই মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও জানান, চিন ক্রমেই দক্ষিণ এশিয়ায় একটি 'আতঙ্ক' হয়ে উঠছে। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়ার কাছে চিন 'থ্রেট' হয়ে যাচ্ছে বলে ব্যাখ্যা করেন মার্কিন সচিব।






মার্কিন সেনা চিনের তরফে আসা চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে উপযুক্ত জায়গায় মোতায়েন থাকবে। চিনা আগ্রাসনের জবাব এর থেকেই বিশেষজ্ঞদের মত যে আদতে চিন এই সব দেশের বিরুদ্ধে উত্তেজনা তৈরি করে ওয়াশিংটনে বার্তা পৌঁছাতে চাইছে। এর জবাবে অবশ্য আমেরিকার সাফ বার্তা, মার্কিন সেনা চিনের তরফে আসা চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে উপযুক্ত জায়গায় মোতায়েন থাকবে।






আসলে ভারত ছাড়া বাকি সব দক্ষিণ এশিয়ার দেশের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছে চিন। এবং বাণিজ্য যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নাজেহাল করেছে এই সুপারপাওয়ার। এই আবহে আমেরিকার মিত্রদেশগুলির সঙ্গে এই উত্তেজনা সৃষ্টি আসলে আমেরিকাকে উত্তেজিত করা। আর এরই জবাবে এবার চিনের রক্তচাপ বাড়িয়ে নিজেদের শক্তি দেখাতে উদ্যত হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।






দক্ষিণ চিন সমুদ্র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় চিন সম্পদ সমৃদ্ধ দক্ষিণ চিন সমুদ্র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চিন সব সময়ই নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে৷ 'ঐতিহাসিক অধিকারের' উপর ভিত্তি করে দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপর চিনের কর্তৃত্বকে ২০১৬ সালের সালিশির মাধ্যমে প্রত্যাখান করা হয়েছিল৷ কিন্তু তারপরও এই দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপর থেকে নিজেদের নজর সরায়নি চিন৷






বিশ্বের ব্যস্ততম সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট দক্ষিণ চিন সমুদ্র বিশ্বের ব্যস্ততম সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট৷ এই পথ দিয়ে বার্ষিক ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়৷ যার ফলে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র প্রতিবেশী অঞ্চলগুলির উপর নয়, একাধিক দেশগুলির উপরও এই সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটের প্রভাব রয়েছে৷ এছাড়া পূর্ব চিন সাগরে চিনের দাবিতেও ঝামেলায় পড়েছে আমেরিকা।




কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.