মশা নিধন অভিযানে নামলো হাবরার একটি মানবাধিকার সংস্হা - The News Lion

মশা নিধন অভিযানে নামলো হাবরার একটি মানবাধিকার সংস্হা




করোনা যখন মাথা চাড়া দিয়ে মানুষের ঘুম ছুটিয়েছে,তেমনি ডেঙ্গুও ঘুম ছুটাতে পারে অনেকেরই। তা ঢের টের পাওয়া গিয়েছিল গতবছরই।সেই চিন্তা মাথায় রেখে যাহাতে ডেঙ্গু মাথা চাড়া দিয়ে না উঠতে পারে, তাই আগে ভাগেই মানুষকে সচেতন করতে,মশা নিধনে রাস্তায় নামলো টুনিঘাটা পিপলস মুভমেন্ট অফ হিউম্যান রাইটস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামে হাবরার একটি মানবাধিকার সংস্হা। 









সকাল হতে না হতেই একদল যুবক-যুবতীদের দেখা গেল রাস্তা বেয়ে বেরিয়ে পড়েছে। কারুর হাতে হাসুয়া,কারুর হাতে স্প্রে আবার কারুর হাতে লিফলেট।তারা প্রত্যেকেই পড়াশুনা করেন। তাদের হাতে পরা ছিল দোস্তানা, মুখে ছিল মাক্স,মাথায় লাগানো হাল্কা মাক্স জাতীয়কাপড়ে ছিল ঢাকা। গায়ে সংস্হার গেঞ্জি এবং গলায়  ঝুঁলানো ছিল সচেতনতার ব্যানার।








 কেউ সচেতন করতে লিফলেট বিলি করছে দোকানে দোকানে,পথ যাত্রীদের। সেই  লিফলেটে লেখা ছিল বাড়িতে ডাবের খোল,টায়ারে, প্লাষ্টিকে জল জমতে দেবেন না। জমা জল পরিস্কার করুন,বাড়ির আশে পাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন ইত্যাদি। অন্যদিকে কেউ বা পার্থেনিয়াম গাছ কাটতে ব্যস্ত।কেউ বা চুন, ব্লিচিং মারতে ব্যস্ত।এমনই একটি চিত্র ফুটে উঠলো হাবড়া ১নং ব্লকের কুমড়া গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায়। 







চারিদিকে যখন করোনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, অনেকেই ভয়ে পড়ি মরি করে বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। ঠিক তখনই অমৃত বিশ্বাস,মিন্টু হালদার,পলি বিশ্বাস,কনিকা কির্ত্তনীয়া, সত্যজিৎ বালা,সজল মালাকার,রুমা মন্ডল,অনিল কাঞ্জিলাল, বুলু দের মতো অনেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে নামতে দেখা গেল এলাকায়। এদিন কাশিপুর প্রর্বাশাপল্লি থেকে মহিষা পর্যন্ত ডেঙ্গু, মশা নিধনে স্প্রেও করা হয়। বিশেষ করে জলের ড্রেন, সব্জি বাজারে,মাছের বাজারে,রাস্তার পাশ দিয়ে জনবহুল জায়গায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাফাই করতে ঘাস মারা স্প্রেও করা হয়।







উল্লেখ্য,গত বছর যখন ডেঙ্গু মাথা চাড়া দিয়েছিল ঠিক তার আগেই হাবড়ার কুমড়া এলাকায় ডেঙ্গু, মশা নিধনে নেমেছিল এই সংস্হা। শুধু তাইই নয়,পরেও সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে দেগঙ্গা,হাড়োয়া,গাইঘাটা,হাবড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে করা হয়েছিল সচেতনতাও।এবারও পথে নামলো তাঁরা।ডেঙ্গুর কথা ভেবে আগেভাগেই কিছু দুস্থ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হল মশারী। 







এদিন অনেকেই হাত পেতে ব্লিচিং পাউডার নিতে দেখা গেলো সদস্যদের কাছ থেকে। যদিও এলাকায় এই উদ্যোগ দেখে খুশি এলাকার অনেকেই। স্হানীয় এক বধূ নমিতা মন্ডল জানান, এরা খুব ভালো কাজ করছে।এরা করোনায় যে ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে,ভাবা যায়না। বাচ্চাদের দুধ থেকে বাড়ি বাড়ি খাদ্য পৌছে দিয়েছিল।ঠাকুর ওদের ভালো রাখুক।







এবিষয়ে সংস্হার সেক্রেটারি সঞ্জীব কাঞ্জিলাল জানান,করোনা আতঙ্ক আমাদের পিছু ছাড়ছে না।এর মধ্যে যদি ডেঙ্গু আবার নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে তাহলে ওটা ভাববার বিষয় হবে।প্রচুর মানুষ বিপদের সম্মুখীন হবে। তাই আগে থেকেই মানুষকে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হল। সাধ্যমতো করা হল মশা নিধন। কিছু না হোক কিছু মানুষতো উপকৃত হবেন।মানুষ সচেতন হলে এটাই আমাদের বড় সাফল্য। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.