আরব থেকে করোনায় মৃত ছেলের দাফন দেখলো মুর্শিদাবাদের পরিবার
এক চূড়ান্ত মর্মস্পর্শী ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী থাকলো মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত এলাকা সামশেরগঞ্জের বোগদাদনগর গ্রাম। মাঝে হাজার যোজনের সুদূর আরবভূমের বাহারিন থেকে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে এলাকার কৃতি ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি স্পেশালিস্ট ইঞ্জিনিয়ার বছর চল্লিশের আব্দুল রহমান মোহাম্মদ খায়রুল রিজভী করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরে দেহ কবরস্থ সাক্ষী থাকলো পুরো হতভাগ্য পরিবার।
এমনকি পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে ওই দেহো ভারত তথা মুর্শিদাবাদের তার পরিবারের কাছে আনার ছাড়পত্র পর্যন্ত মিলেনি।ভিডিও ব্লগের মাধ্যমে ছেলের দেহ কবরস্থ হওয়ার করুন মর্মস্পর্শী মুহূর্ত চাক্ষুষ করতে হলো তার পরিবার সহ পুরো এলাকাবাসীকে।
প্রসঙ্গত বছর চারেক আগে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের বোগদাদ নগরের বাসিন্দা পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রিজভি পাড়ি দেন আরব ভূমি বাহারিনে।সেখানে এক বেসরকারি সংস্থায় ইলেক্ট্রনিক্স টেকনোলজি স্পেশ্যালিস্ট পদে কর্মরত ছিলেন। লকডাউনে এত দূর থেকে বাড়ি ফিরতে পারেননি।
বেশ কয়েকদিন আগে করোনা পজিটিভ হন রিজভি। সাতদিন থেকে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভরতি ছিলেন বলে সূত্রের খবর। এরপর ওই সংস্থা খায়রুল রিজভী কে একটি আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করে।পরিবারের লোকের আক্ষেপ এরপরে আর রিজভীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি তার সামশেরগঞ্জ পরিবারের সদস্যরা।
অবশেষে সুদূর আরব থেকে ফোনে প্রথমে জানানো হয় করোনা আক্রান্ত হয়ে রিজভীর মৃত্যু হয়েছে রিজভীর। এরপরই মঙ্গলবার শোকে ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার ও তার গ্রামবাসী। দেহ আরব থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।কিন্তু ছাড়পত্র না মেলায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বর্তমানে রিজভির স্ত্রী,চার বছরের পুত্রসন্তান সহ দাদা মা-বাবা ও অন্যান্যরা রয়েছেন বাড়িতে। আর তারপরেই ছেলের শেষ যাত্রা টুকুতে অন্তত অংশগ্রহণ করতে পারল না পরিবারের কেউ এমনকি দেহ দান করার সময় পরিবারের কেউ সেখানে উপস্থিত থাকতে পারল না।
মঙ্গলবার পুরো পরিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুর্শিদাবাদ থেকে আরবে রিজভীর নিথর দেহ কবরস্থ করার সাক্ষী থাকল চোখের জলের মধ্যে দিয়ে।

Post a Comment