ডলফিনকে টেনে হিঁচড়ে রক্তাক্ত অবস্থা করল এক দল যুবক - The News Lion

ডলফিনকে টেনে হিঁচড়ে রক্তাক্ত অবস্থা করল এক দল যুবক




 গঙ্গায় ফিরেছে ডলফিন। আনন্দে আত্মহারা রাজ্য। আহা কিছু তো সুফল হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা অন্য। সেই গঙ্গা শুশুক বা ডলফিন ধরে অত্যাচার চালাল একদল যুবক। এমনই এক ভিডিও এই মুহূর্তে ভাইরাল সোশ্যাল মাধ্যমে। আরও দুঃখের বিষয় হল এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গেরই।  ঘটনা দিন দুয়েক আগের। সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হয় একটি ভিদিওম যেখানে দেখা যায় একদল যুবক একটি শিশু গঙ্গা ডলফিন ধরেছে। তারপরের চিত্র ভয়ঙ্কর। কখনও তাকে চাগিয়ে ধরে শ্বাস রোধ করে দিচ্ছে। কখনও দেখা গিয়েছে তার দুই ঠোঁটের অংশ ধরে টানা হ্যাচরা করছে। যন্ত্রণায় ছটফট করছে ছোট্ট প্রাণীটি।





আরও কষ্টকর হল এই যে।  এই ধরণের ডলফিন মুখে খুব একটা শব্দ করতে পারে না। ভিডিওটি সোশ্যাল মাধ্যমে আপলোড করা হয়েছিল রফিকু সেইখ নামের একটি প্রোফাইল থেকে। আরও একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল ওই প্রোফাইল থেকে। সেখানে দেখা গিয়েছে রক্তাক্ত অবস্থায় জলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে ওই শুশুকটিকে। পরিবেশবিদদের ঘটনাটি নজরে এসেছে।  তাঁরা ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানিয়েছেন বনদফতরে। দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে ওই ভিডিও কলকাতা থেকে বর্ধমানের মধ্যে কোথাও করা হয়েছে। দোষীদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। তাদের কড়া শাস্তি হবে বলে জানানো হয়েছে।   




প্রসঙ্গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে গঙ্গায় দেখা মিলছিল ডলফিনের। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছিলেন, শুশুক বা গাঙ্গেয় ডলফিনদের বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ গঙ্গায় দূষণ। তরল ও কঠিন বর্জ্য তো বটেই, শব্দ দূষণের মাত্রাও এতটাই সাঙ্ঘাতিক যে ডলফিনরা আর নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে পারে না। মাছের ঝাঁকের শব্দ শুনে এরা বুঝতে পারে ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে তাদের শিকার। 




নিজেদের মধ্যে কথা বলার জন্যও শব্দতরঙ্গের একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে ডলফিনদের সংসারে। আবার গাঙ্গেয় ডলফিনদের বলা হয় ব্লাইন্ড ডলফিন। এরা মূল আলট্রাসনিক সাউন্ডের সাহায্যে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে চলে। শব্দ এবং জল দূষণ গত এক মাসে কার্যত নেই বললেই চলে। আর এর জেরেই তারা ফিরে এসেছে আপন জায়গায়।  প্রশ্ন উঠছে, কিন্তু আপন দেশে যদি এই হাল হয় কেন ফিরবে তারা? এর থেকে তো লুকিয়ে থাকা অনেক ভালো ছিল বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.