এবার জামাইষষ্ঠী যেন কামাইষষ্ঠী
এবারের জামাইষষ্ঠী নিয়ে কোথাও কোনও উত্তাপ ছিল না। জামাইদের ছুটির আবেদন নেই। শ্বশুরদের ব্যাগ হাতে ছোটাছুটি নেই। হোটেল, রেস্তোরাঁর স্পেশাল ডিশ নেই। রাজ্য সরকারের অর্ধ-দিবস ছুটি ঘোষণাও নেই। লকডাউন অনেক কিছুই কেড়ে নিয়েছে। পয়লা বৈশাখ ,অক্ষয় তৃতীয়া, ঘরেই সারতে হয়েছে ইদের আনন্দ।
তবে জামাইষষ্ঠী তো আর ভার্চুয়াল করা যায় না। মনে মনে প্রণাম আর ফোনে ফোনে আশীর্বাদ না হয় হল, কিন্তু কব্জি ডুবিয়ে খেতে না পেলে সেটা আবার কীসের জামাইষষ্ঠী। বিয়ের পর থেকে একটিবারের জন্য এমন পবিত্র দিনে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ায় কামাই নেই এমন জামাইরাও এবার ঘরবন্দি। এবার জামাইষষ্ঠী যেন কামাইষষ্ঠী।এমনিতেই ট্রেন, বাস চলছে না। দূরের জামাইরা তাই দূরেই থাকবেন।
চার চাকার গাড়িতে ফুল ফ্যামিলিকে তোলা যাবে না। তাই মাছের মুড়োটি, কাঁসার বাটিতে আমের আঁটিটি আর এই বছরে জুটছে না। তবে সাইকেল, বাইক, রিকশ দূরত্বের জামাইরা কিছুটা ছাড় পাবেন। তাও কি বিধিনিষেধ কম নাকি! কনটেনমেন্ট জোনে থাকলে তো কথাই নেই, রেড জোনের জামাইরাও এবার নেমন্তন্ন পাননি। সেই রেড জোনেরও তো আবার কত ভাগ। ‘বি’ যেতে পারবে ‘সি’-এর কাছে কিন্তু ‘এ’ থাকবে একা। ‘সি’ আবার ‘বি’-এর কাছে গেলেও মাস্কে ঢেকে রাখতে হবে মুখ। সামাজিক দূরত্ব রেখে শ্বশুর, শাশুড়িকে প্রণামও না হয় করে নেওয়া যাবে কিন্তু শালিদের সঙ্গে রসিকতা করতে কাছেটি যাওয়া যাবে না মোটেও।
এই বাংলাতেই প্রবাদ আছে ‘যম-জামাই-ভাগনা- কেউ নয় আপনা।’ তবু জামাই আদরের কোনও কমতি নেই বাঙালি জীবনে। সেটা বারোমাস। আর জামাইষষ্ঠী মানে স্পেশাল– ‘জামাই ডে’। নতুন পাখার উপরে আমের পল্লব এবং আম-সহ পাঁচ রকমের ফল সাজিয়ে জামাই-এর মঙ্গল কামনায় শাশুড়ির দল ব্রত পালন করেন এই দিনটায়। ১০৮টি দুর্বার আঁটি দিয়ে উপকরণ সাজাতে হয়।
করমচা-সহ পাঁচ থেকে সাত বা নয় রকমের ফল কেটে কাঁঠাল পাতার উপর সাজিয়ে রাখতে হয় শাশুড়িকে। সেই সঙ্গে নতুন পোশাক তো আছেই। বিনিময়ে অবশ্য শ্বশুর, শাশুড়িদেরও প্রাপ্তি ঘটে। কিন্তু না, সেসবের আয়োজন নেই বললেই চলে। বাজারের কথাও তো কহতব্য নয়। আম নেই বললেই চলে। ঝড়ে ঝরে পড়া হিমসাগর ১০০ টাকা কেজি, লিচুর বান্ডিল ৮০ টাকা, কাঁঠালের এখনও দেখা নেই। খাসির মাংস ৭০০ টাকা আর অরুচি ধরে যাওয়া মুরগিও ২৫০-এর আশপাশে। লকডাউনের বাজারে মিষ্টিওয়ালারাও এবার আর স্পেশাল ‘জামাইভোগ’ সন্দেশ বানাননি।
Post a Comment