১০ মিনিটেই তছনছ দুই বন্ধুর স্বপ্ন! - The News Lion

১০ মিনিটেই তছনছ দুই বন্ধুর স্বপ্ন!




 পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচার ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপাড়া শিখিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করারও স্বপ্ন ছিল দুই বন্ধুর। কিন্তু মাত্র ১০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে সেই স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।রোববার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল গ্রামের হারাধন পোদ্দার ও কৌশিক বাইনের মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারের ৬টি শেড ও ৬টি খাবার রাখার ঘর তছনছ হয়ে আশপাশ এলাকার ধান ক্ষেতে গিয় পড়ে। মারা যায় খামারের সাড়ে ১২ হাজার মুরগি। এসব মুরগি পরদিনই বিক্রি করার কথা ছিল। সব মিলিয়ে খামারটিতে অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।



খামারী হারাধন পোদ্দার ও কৌশিক বাইন বলেন, আমরা দু’জনে আমাদের এলাকার বৈরাগীটোল গ্রামে ৩২ বিঘা জমি বছরে তিন লাখ টাকা চুক্তিতে লিজ নিয়ে প্রতিটি তিন লাখ টাকা ব্যয়ের ৮ টি শেড ও প্রতিটি দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ টি খাবার রাখার ঘর তৈরি করে এখানে তিন বছর ধরে পোলিট্র ও মাছের ব্যবসা করে আসছি। আনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে সাজিয়ে ছিলাম বিশাল এই খামারটি।তারা জানান, আমাদের স্বপ্ন ছিল আমরা স্বাবলম্বী হবো, পরিবার নিয়ে ভালভাবে বাঁচবো ও ছেলে-মেয়েদের লেখা-পাড়া শিখিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবো। কিন্তু গত শনিবার সন্ধ্যায় ১০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে আমাদের সে স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। 



আমরা ব্র্যাক ও অগ্রণী ব্যাংক থেকে অনেক টাকা লোন নিয়েছি। তা কিভাবে পরিশোধ করবো? এই খামার আবার কিভাবে দাড় করাবো এনিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই যাতে সরকার পোল্ট্রি শিল্প বাঁচাতে আমাদের পাশে দাঁড়ায়। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সরদার বলেছেন, আমি সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোলের হারাধন পোদ্দার ও কৌশিক বাইনের খামারটি পরিদর্শন করেছি। 



খামারটির ৬ টি শেড, খাবার রাখার ৬ টি ঘর উড়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মুরগি মারা গেছে। তাদের অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করবো। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেছেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সচিত্র প্রতিবেদন দেয়ার জন্য। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.