ফের করোনার জেরে ধার করতে হচ্ছে ভারতকে
করোনা এখন সব হিসেব বদলে দিচ্ছে। করোনা আটকাতে লকডাউন। আর তারই জেরে ক্রমশ বেহাল হচ্ছে অর্থনীতি। ফলে রাজকোষে লাগামছাড়া ঘাটতি বাড়ছে। পরিস্থিতি বিচার করে মোদী সরকার ধারের পরিমাণ আরও বাড়ানোর কথা বলেছে। বাজেটে ধরা হয়েছিল চলতি অর্থবছর ৭.৮ লক্ষ্য কোটি টাকা ধার নেওয়া হবে। কিন্তু পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অর্থ মন্ত্রক জানালো এই ঋণের অংক বেড়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকা হবে।
রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেই এবার ১২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে বলে ভাবা হয়েছে। কেন্দ্র জানিযছে, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ছয় মাসেই ছয় লক্ষ কোটি টাকা ধার করতে হবে। পাশাপাশি এর ফলে রাজকোষের ঘাটতি যেটার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩.৫ শতাংশ সেটাও একই রকম ভাবে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঋণের পরিমাণ বাড়ালেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। সেটা হল এই অতিরিক্ত ৪.২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিলেও কি সরকার সক্ষম হবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রাণের ব্যবস্থা করতে।
নাকি লকডাউনের জেরে রাজস্ব আদায় যে পরিমাণে কমে গিয়েছে এবং করোনা মোকাবিলায় যে আর্থিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে তাতেই সব টাকা খেয়ে যাবে। এছাড়া এই বাড়তি ঋণ মেটাতে কি রিজার্ভ ব্যাংককে টাকা ছাপানোর রাস্তায় যেতে হবে। তাছাড়া টাকা ছাপিয়ে কেন্দ্র যদি ঋণপত্র ইত্যাদি না কেনে তাহলে কি সুদের হার বাড়ানোর দিকে হাঁটা হবে? তেমনটা করলে রাজ্য এবং অন্যান্য সংস্থাকে বেশি সুদের হারে ঋণ নিতে হবে।
রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস অবশ্য নোট ছাপানোর বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেননি। তবে অর্থনীতিবিদদের ধারণা, এই বাড়তি ঋণের অর্থের কতটা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ব্যবহার করা হবে তা বলা মুশকিল। কারণ এর অনেকটা অংশই চলে যাবে রাজস্ব ক্ষতি সামলাতে। রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর রঘুরাম রাজন ইতিমধ্যেই বার্তা দিয়েছেন , নোট ছাপানো এবং রাজস্ব ঘাটতি দুটি বিষয়ে বুঝে সুঝে পা ফেলতে হবে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রস্তাবে মূল্যবদ্ধি সহ জিডিপি ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে ব্যর্থ হবে এমন নয়, পাশাপাশি ধাক্কা খাবে বিলগ্নীকরণের মাধ্যমে অর্থ তোলার উদ্যোগটিও। এদিকে, নতুন করে পর্যালোচনা করে মূল্যায়ন সংস্থা মুভিজ যে পূর্বাভাস দিয়েছে তাতে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গিয়েছে। এবার এই মূল্যায়ন সংস্থার অভিমত, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার এই আর্থিক বছরে শূন্যে নেমে যেতে পারে।তাছাড়া আগের সমীক্ষায় এই মূল্যায়ন সংস্থাটি ভারতের রাজকোষের ঘাটতি ২০২১ সালেই ৩.৫ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করেছিল।
Post a Comment