আমফানের জেরে চেন দিয়ে বাঁধা হল বন্দরের ক্রেন
সেতু নিউজঃ প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান'। এই মূহূর্তে ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ২৫০ কিমি, দিঘা থেকে ৩৯০ কিমি ও খেপুপাড়া থেকে ৫৪০ কিমি দূরে রয়েছে ঘূর্ণিঝড়। রাজ্যের বন্দরগুলিতে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে । ট্রেনের মতোই চেন দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে বন্দরের ক্রেনগুলিকে। এমনটাই জানাচ্ছে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট। নিষিদ্ধ করা হয়েছে জাহাজ চলাচল। পোর্ট ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবন এলাকায় নোঙর করে থাকা ১৯টি ভেসেলকে গভীর সমুদ্রে পাঠানো হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার ও সাগর বন্দরে ভেসেল ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পণ্য ওঠানামাও বন্ধ। এই দুই বন্দরে থাকা ভেসেলগুলিকেও পাঠানো হয়েছে গভীর সমুদ্রে।
বন্দরের বার্জগুলিকে সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হলদিয়ায় আপাতত জাহাজ চলাচল বন্ধ হলেও সকালের জোয়ারে তিনটি জাহাজ বন্দর ছেড়েছে, এবং দু’টি শিপ বন্দরে ঢুকেছে। পাইলট ভেসেল ‘মা গঙ্গা’ এবং চারটি পাইলট লঞ্চকেও বন্দরের নিরাপদ স্থানে নোঙর করা হয়েছে। কলকাতা বন্দরে এই মুহূর্তে মোট ৩০টি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে বলে জানিয়েছে পোর্ট ট্রাস্ট। এ ছাড়া হলদিয়া বন্দরেও রয়েছে ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে আলাদা করে সাগরের সুভাষ ভবন, হলদিয়ার জহর টাওয়ারে খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম।
আবহাওয়া দফতরের দেওয়া বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখেই সব বন্দরেই কার্যত জাহাজ চলাচল বন্ধ। পোর্ট ট্রাস্টের জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘জাহাজ গভীর সমুদ্রে থাকলে ঘূর্ণিঝড়ে কোনও ক্ষতি হয় না। তাই সেগুলিকে দূরে পাঠানো হয়েছে। বন্দরে নোঙর করে থাকা জাহাজগুলিকে আরও শক্তভাবে আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।’
আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার সুন্দরবনের নিকটবর্তী এলাকায় আমফান মারাত্মক শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়ার কথা। আশঙ্কায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বাসিন্দাদের সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু করে দিয়েছে। জানানো হয়েছে বুধবার পূর্ব উপকূলে সকাল ৯ টা থেকে ১২ টার মধ্যে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে আমফানের।
Post a Comment