কলকাতায় আমফানের আসল প্রভাব পড়বে লকডাউনের পরে
কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন ঝড়ের পর জানিয়েছিল, ৫০০০-এরও বেশি গাছ পড়ে গিয়েছে। এর মধ্যে বহু গাছই ৫০ বছরেরও বেশি পুরনো। শহরের পরিবেশবিদরা অবশ্য বলছেন সংখ্যাটা কম করে ১০,০০০ হতে পারে। এই গাছগুলিই এত বছর রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির ধোঁয়া বা অন্যান্য কারণে নিঃসৃত কার্বন শুষে নিয়ে কলকাতার বাতাসে দূষণের মান নিয়ন্ত্রণে রাখত।
বিশেষ করে লকডাউনের সময়টায় যানবাহন না থাকায় কলকাতার বাতাসের মানের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এই গাছগুলি। সেই গাছেরই এক তৃতীয়াংশেরও বেশি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে আজ। শহরে গাড়ি বাড়লেই বাতাসে বাড়বে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষুদ্র কণার পরিমাণ।
আমফানের কলকাতার আবহাওয়ায় আসল প্রভাব ফেলবে লকডাউনের পরের দিকে। এমনটাই জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরা। সৌজন্যে শহরে হাজার হাজার গাছ পড়ে যাওয়া। পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত জানাচ্ছেন, ‘মানুষ ক্রমে যত রাস্তায় বেরোবে , গাড়ি সচল হবে ঠিক তখন রাস্তার ধারের বড় বড় গাছের ভেঙে যাওয়ার ফল বোঝা যাবে। ওই গাছগুলো শহরের প্রচুর দূষণ আটকায়। বহু পুরোনো ও বড় বড় গাছ পরে গিয়েছে এর প্রভাব পড়া খুব স্বাভাবিক।’
পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড জানাচ্ছে, আসন্ন বর্ষা মরসুমে প্রচুর পরিমাণে নতুন গাছ লাগাতে হবে শহরে। সমূলে উপরে যাওয়া এক-একটি গাছের ক্ষতিপূরণের জন্য অন্তত দশটি নতুন গাছ লাগানো দরকার। সূত্রের খবর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করা হবে। এই প্রসঙ্গে পরিবেশকর্মী জয়িতা কুন্ডু কুন্তী জানাচ্ছেন, ‘অনেকে বলতে পারেন যে গাছ বসিয়ে দেওয়া হবে। মনে রাখতে হবে।
একটা বড় গাছ যত অক্সিজেন দেয়, তার সিকি ভাগও দেয় না ছোট গাছ। সেই গাছ বড় হতে সময় লাগবে তবে না শহরের বিপুল পরিমান কার্বন – ডাই – অক্সাইড নিয়ে অক্সিজেন ফেরত দেবে। পুরো পদ্ধতি অনেক লম্বা এবং অনেক শক্ত। অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে বললেও ভুল হবে না। শহরের আবহাওয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যে সব জীব , প্রাণী লকডাউনে ফিরে এসেছিল সেগুলি আর ফিরবে তো নাই উল্টে বেশ কিছু আরও জীব এই শহর ছেড়ে পালানোর পথ খুঁজে নেবে।’
Post a Comment