পাওনা টাকার জন্য ‘আমিও মরব, তুইও মর’ বলে সপাটে ঝাপটে ধরেন করোনা রোগী
গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের কক্সবাজার শহরতলীর লিংকরোড বাস স্টেশনে পাওনা টাকার জন্য ‘করোনা লাগিয়ে দেওয়ার’ কথা বলেই দেনাদারকে জাপটে ধরলেন করোনা পজিটিভ এক যুবক। করোনা আক্রান্ত রোগীর নাম জাহাঙ্গীর আলম। বয়স ৩২-এর কাছাকাছি। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম মুকতারকুল গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় ট্যাক্সি ড্রাইভার। পাওনা টাকার জন্য তিনি লিংক রোডের সালামত নামে এক দোকানীকে ‘আমিও মরব, তুইও মর’ বলে সপাটে ঝাপটে ধরেন।
হঠাত এভাবে জড়িয়ে ধরার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। একই সঙ্গে আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। জানা যায়, ওই যুবকের গত চার দিন আগে তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তার ভগ্নীপতি আবদুর রহমান ও তার বোন খুরশিদা বেগমও বেশ কয়েকদিন ধরে করোনা আক্রান্ত হয়ে রামু করোনা চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালের আইসোলেশন রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, তাঁকে তাঁর বাড়িতেই থাকতে বলা হয়। কিন্তু সে লকডাউন অমান্য করেই মোটর সাইকেল নিয়ে বেপরোয়া ঘুরাঘুরি করছিল বলে মারাত্মক অভিযোগ। আর এই ঘটনায় স্পষ্ট বাংলাদেশে স্বাস্থ্য পরিস্থিতির হাল।
এই বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলার এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, গত রবিবার জাহাঙ্গীর আলমকে নিজ ঘরে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে গোটা এলাকা একেবারে সিল করে দেওয়া হয়। বলা হয় কেউ যাতে না বের হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু কে কার কথা শোনে! নিরাপত্তার না থাকার সুযোগ নিয়ে মাঝে মধ্যেই সে বাইরে বেরিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ।
প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, লকডাউন না মেনে হরদম মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করায় স্থানীয়রাও বিপাকে পড়েছেন। হামলার শিকার সালামতকে দ্রুত স্নান করানো হয়েছে বলে জানান তিনি। খুব শীঘ্রই তাঁর শরীরেও করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
Post a Comment