করোনাভাইরাসের নতুন মৃত্যুপুরী ব্রাজিল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ; করোনাভাইরাসের পরবর্তী ‘হটস্পট’ ব্রাজিল- বিষয়টি আগেই সতর্ক করেছিল বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। সেই সতর্কতা এখন সত্যি হতে চলেছে। গেল সপ্তাহে দেশটিতে হু হু করে বেড়েছে করোনা আক্রান্ত ও প্রাণহানি।
কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যায় ইতোমধ্যে ফ্রান্স ও ইতালিকেও ছাড়িয়ে গেছে ব্রাজিল। মারা গেছেন ১৫ হাজারের বেশি মানুষ। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নতুন মৃত্যুপুরী হয়ে উঠছে ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটি।
এদিকে ভারতের কেরালা ও আসামসহ কয়েকটি রাজ্যে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। জার্মানি, ব্রিটেন ও পোল্যান্ডে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় পুলিশ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।
প্রায় দু’মাস পর মৃত্যু একশ’র নিচে নামল স্পেনে। করোনায় প্রথম মৃত্যু দেখলো নেপাল। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।
বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৭ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ লাখ ৭১ হাজার ৬৯৭ জন। মারা গেছেন ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৪ জন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে ৪৪ হাজার ৭৯২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯৫ হাজার ৫৯৯ জন, মারা গেছে ৪ হাজার ৩৬০, যা আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল পাঁচ হাজার ৭২।
যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক হাজার ২১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৯০ হাজার ৩৩২ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৩১১ জন।
স্পেনে মোট আক্রান্ত দুই লাখ ৭৭ হাজার ৭১৯ জন, মারা গেছেন ২৭ হাজার ৬৫০ জন। যুক্তরাজ্যে মোট আক্রান্ত দুই লাখ ৪৩ হাজার ৩০৩ জন, মারা গেছেন ৩৪ হাজার ৬৩৬ জন।
ইতালিতে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৫ জন, মারা গেছেন ৩১ হাজার ৯০৮ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৬২৫ জনের।
এদিকে, ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৯১৯ জন এবং মারা গেছেন ৮১৬ জন। এর ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪৮ জন, মোট মৃত্যু ১৫ হাজার ৬৬৮ জন।
কারোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের পরই এখন ব্রাজিলের অবস্থান। কিন্তু আক্রান্ত শনাক্তে ওই চারটি দেশ যে পরিমাণ পরীক্ষা করেছে ব্রাজিলের পরীক্ষা তার চেয়ে ঢের কম।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস পরীক্ষা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ, স্পেনে ৩০ লাখ, রাশিয়ায় ৬৬ লাখ এবং যুক্তরাজ্যে ২৪ লাখ। এর বিপরীতে ব্রাজিলে পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ৭ লাখ।
আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি হয়ে ওঠা ও পরীক্ষায় অন্য দেশ থেকে পিছিয়ে থাকার কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ওপর চাপ বাড়ছে, যিনি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপেক্ষা করে প্রমাণিত নয় এমন ওষুধের ব্যাপক ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
এনিয়ে বিরোধে তার নতুন নিয়োগকৃত স্বাস্থ্যমন্ত্রীও গেল শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। এর আগে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলার কৌশল নিয়ে বিরোধের কারণে পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছিলেন তিনি।
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে কঠোর সামাজিক দূরত্ববিধি, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনের পদক্ষেপ নিয়ে স্কুল, দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেয় ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার। কিন্তু বোলসোনারো এর তীব্র সমালোচনা করেন।
রাজ্যগুলোর এসব পদক্ষেপের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি অসহনীয় হয়ে উঠছে যুক্তি দেখিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
Post a Comment