উত্তরে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনকে এক ছাতার তলায় এনে সমন্বিত করার লক্ষে এগোচ্ছে আইএনটিটিইউসি
দি নিউজ লায়ন: উত্তরে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনকে এক ছাতার তলায় এনে সমন্বিত করার লক্ষে এগোচ্ছে আইএনটিটিইউসি। এক ইউনিয়নের একাধিক গোষ্টি তত্ত্বের ওপর রাশ টানতেই উল্লেখযোগ্য উত্তর সফর তৃনমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব নিয়েই উত্তরবঙ্গের চা বগানে এলাকার ছোট ছোট ইউনিয়নগুলিকে একত্রিত করে দলীয় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির দিকেই নজর দিচ্ছেন তিনি।
বুধবার শিলিগুড়িতে খবর ৩৬৫দিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পরিচিত সাবলীল ভঙ্গিতেই তিনি জানান উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলিতে আইএনটিটিইউসির ব্যানার নিয়েই একাধিক ছোট বড় পৃথক ইউনিয়ন গড়ে কাজ চলছে। আইএনটিটিইউসির ব্যানারেই একাধিক জেলা নেতৃত্বরা ছোট বড় গোষ্টি গুলিকে পরিচালনা করছে। তবে এভাবে আর চলবে না। তিনি বলেন আইএনটিটিইউসির ব্যানারে সঙ্ঘবদ্ধভাবে একটিইমাত্র ইউনিয়ন থাকবে। এই বিষয়ে বুধবার উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলা নেতৃত্বদের সঙ্গে শিলিগুড়ির স্টেট গেস্ট হাউজে বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে ছিলেন উত্তরবঙ্গ আইএনটিটিইউসির কোঅর্ডিনেটর অলক চক্রবর্তী ও উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির চেয়ারম্যান গৌতম দেব। আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বাবু জানান আইএনটিটিইউসির আওতায় যে ইউনিয়নগুলি রয়েছে তাদের সকলের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তরাই ডুয়ার্স প্ল্যান্টেশন ইউনিয়ন,সিবিটিএ সহ ৩০টি ইউনিয়নের জেলা নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তাদের পরিষ্কার বলা হয়েছে ছোট বড় যে ইউনিয়ন গুলি কাজ করছে তাদের সবকটি নেতৃত্বদের নিয়েই আইনটিটিইউসি ব্যানারে কাজ হবে।
তাদের কাছে সংগঠনের যাবতিয় ডাটাবেজ চাওয়া হয়েছে। তাদের সাফ জানানো হয়েছে আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত সঙ্ঘবদ্ধ একটিই মাত্র ইউনিয়ন থাকবে। একাধিক শাখা বা গোষ্ঠীর পরিবর্তে সংঘবদ্ধভাবে আইএনটিউসির ব্যানারে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনমাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়াকরন শেষ করে নতুনভাবে সংগঠন সাজানোর জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত একত্রিত করে দলীয় সংগঠনের পাশাপাশি তিনি বলেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে চা বাগান ভিত্তিক ইউনিট গড়ে কর্মসূচীতে নেমে প্রতিবাদের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ভূমিকাকে একহাত করে বলেন কেন্দ্র সরকারের কাজের সময়সীমা ৮ঘন্টার বাড়িয়ে ১২ঘন্টা করেছে যা সরাসরি শ্রমিক স্বার্থের বিরোধী। অন্যদিকে বন্ধ চা বাগান খোলার বিষয়ে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন বিগত বছরের লকডাউন পর্বেও উত্তরের চা বলয় ও দার্জিলিং পার্বত্য এলাকায় রেকর্ড সংখ্যক বন্ধ চা বাগান খুলেছে।
ইতিমধ্যেই নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তোর্ষা চা বাগান খুলে গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বাগড়াকোট চা বাগান খুলছে। বর্তমানে ১২টি বন্ধ চা বাগান রয়েছে সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সক্রিয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যাতে এই বাগান গুলো দ্রুত খোলা সম্ভব হয়। যে বন্ধ বাগানগুলির চূড়ান্ত আইনি জটিলতা রয়েছে সেক্ষেত্রে কিছু সমস্যা থেকে যাচ্ছে।

Post a Comment