সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী প্লাবিত এলাকায় ত্রাণ তুলে দিলেন শিক্ষক সমিতি
দি নিউজ লায়ন; সুন্দরবনের ক্যানিং মহকুমা টানা ৪ দিনের ভারি বর্ষণ ও করোনা অতিমারি পরিস্থিতির মধ্যে নাজেহাল ক্যানিং মহকুমাবাসী।পাশাপাশি গত ২৬ ও ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা তচনচ হয়ে যায় নদীর বাঁধ ভেঙে।আর এমনি পরিস্থিতিতে এগিয়ে এলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি।
তারা সুন্দরবনে গোসাবার একেবারে শেষপ্রান্তে (বাংলাদেশের বর্ডারে) ঝিলা নদীর পাড়ে মরিজঝাঁপির পাশে "ইয়াস" প্লাবিত কুমীরমারি গ্রামে ৪৫০ জন গ্রামবাসীর জন্য একদিনের "কমিউনিটি কিচেন" এর মাধ্যমে রান্না করা খাবার, ১৫০জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা সামগ্রী এবং দেড় শতাধিক দুর্গত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেয়।সারাদিন প্রবল বৃষ্টির মধ্যে গদখালিতে পৌঁছায় সমিতির প্রতিনিধি দল।
ওখান থেকে জল পথে লঞ্চে করে গিয়ে ধাপা পাড়া, সরকার পাড়া ও সরকার পাড়া সংলগ্ন জায়গায় পৌঁছায়।সেখানে দুর্গত মানুষের জন্য এদিন কমিউনিটি কিচেনে দুপুরের খাবার হিসেবে ভাত, ডাল, সবজি, ডিম, চাটনির ব্যবস্থা করা হয়।এরপর "মনু পাড়া"তে সর্বস্ব হারানো পরিবারদের হাতে একটি বড় মশারি, গামছা,সরষের তেল, সোয়াবিন, পেঁয়াজ, আলু, লবণ, ডিটারজেন্ট, সাবান, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও হ্যালোজেন ট্যাবলেট তুলে হয়।
সুস্থ ছাত্রছাত্রী দের হতে তুলে দেওয়া হয় খাতা-পেন।সমিতির জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার জানান ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবে সর্বস্ব হারানো এই অসহায় মানুষগুলিকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে অনেক সাহায্যের প্রয়োজন। আমাদের সামর্থ্যমতো কিছু ত্রাণসামগ্রী তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছি। কিন্তু বাংলার শিক্ষক সমাজ যে এই অসহায় দুর্গত মানুষদের পাশে আছে সেই মানবিক বার্তাটি পৌঁছে দিতে আমরা এই সুদীর্ঘ বিপদসংকুল পথ অতিক্রম করে এখানে এসেছি। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী প্লাবিত এলাকায় আমাদের এই ত্রাণ বিতরণ" ও "কমিউনিটি কিচেন" কর্মসূচির চলতে থাকবে।

Post a Comment