এক আদিবাসি মহিলাকে নগ্ন করে এলাকা ঘুরিয়ে মারধরের অভিযোগে আটক ৬
দি নিউজ লায়ন; পশ্চিম চ্যাংমারি গ্রামের এক আদিবাসি মহিলাকে নগ্ন করে এলাকা ঘুরিয়ে মারধর করেন পারার মাতব্বরেরা। পরে আবার নির্মম পাশবিক এই ঘটনার ছবি তুলে তা ভাইরাল করে দেওয়া হয়। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নরেচরে বসে পুলিশ। এই ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারগ্রাম থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন ওই মহিলা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে।
অন্যান্যদের খোজে তল্লাসি শুরু করা হয়েছে। গ্রেফতার তিনজনকে সোমবার আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার তদন্তে তিনটে আলাদা দল গঠন করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে বিচারের নামে বাড়ি থেকে ওই মহিলাকে টেনে হিচড়ে বের করে জোর করে জামা কাপড় ছিড়ে নগ্ন করে মারধর করা হয়। তার পর থেকে নিখোঁজ ওই মহিলা। অভিযোগ মাস ছয় আগে ওই মহিলা অন্য একজন পুরুষের সাথে প্রণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে যান । পরবর্তীতে যার হাত ধরে তিনি স্বামীর ঘর ছেড়েছিলেন ওই ব্যক্তি তাকে ত্যাগ করে। তারপর স্বামীর কথায় গত বৃহস্পতিবার তিনি স্বামীর ঘরে পশ্চিম চেংমারী গ্রামে ফেরেন । স্বামী তাকে মেনে নিলেও এলাকার কিছু মানুষ এই ঘটনা নিয়ে খবরদারিতে নামেন । তারা বিচারের নামে বৃহস্পতিবার রাতে ওই মহিলাকে ঘর থেকে টেনে বের করে নগ্ন করে মারধর করে । এবং মোবাইলে পাশবিক ওই ঘটনার ছবিও তুলে রাখে দুষ্কৃতিরা। মারধরের পর থেকে ওই মহিলা নিখোঁজ । ওই ঘটনার পর কেউ তাকে এলাকায় দেখেনি। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সহ অনেকেই চারদিকে খোঁজ করেও কোন হদিস পাননি ওই মহিলার। রবিবার দিন সেই মারধরের নগ্ন ভিডিও এলাকায় ভাইরাল হয় । তারপর নিন্দার ঝড় ওঠে ।কুমারগ্রাম ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি ধীরেশ চন্দ্র রায় বলেন , অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা , সভ্য সমাজে বর্বরতার কাজ চলছে ,দলীয় ভাবেও তদন্ত করা হবে । প্রশাসন কে অনুরোধ করবো উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবার জন্য ।" ঘটনার নিন্দা করেছেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালও। তিনি বলেন, " অত্যন্ত পাশবিক ঘটনা। এই ঘটনা বর্তমান সমাজের লজ্জা। অবিলম্বে দোষি সকলকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। " জানা গিয়েছে গ্রেফতার তিন জনের নাম গ্রেফতার চাতকি কুজুর, বিপন টপ্পো ও
সুজিত লাকরা। গ্রেফতার তিনজনই আশ পাশ এলাকার বাসিন্দা। সোমবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে বলেন, " আমরা তিনজনকে গ্রেফতার করেছি। অন্যান্যদের খোজে তল্লাসি শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে তিনটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।"

Post a Comment