ইয়াসের প্রভাবে বসিরহাটের কৃষকদের মাথায় হাত, ক্ষতিগ্রস্ত ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল
দি নিউজ লায়ন; ঘুর্ণিঝড় ইয়াস আর ভরা কোটালের দোসরে নদীবাঁধ ভেঙে জল ঢুকেছে বসিরহাটের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিশেষ করে নোনা জলে সবথেকে বেশী ক্ষতি হয়েছে ফসলের জমির। কৃষিজ সম্পদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ঘটে গিয়েছে। বসিরহাট মহকুমা প্রশাসন সুত্রে জানা গিয়েছে, এই মহকুমাতেই প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে কৃষি ক্ষেত্রে।
বসিরহাট মহকুমার কৃষি দফতর সুত্রে জানা গিয়েছে, এই বছর বসিরহাট মহকুমার ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট, তিন, বাদাম, কলা, পেঁপে,আম, জাম, জামরুল এবং বিভিন্ন ধরণের আনাজ পত্তরের চাষ হয়েছিলো। যারমধ্যে ইয়াসের কারণে ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে। নোনা জলের কারণে এই মহকুমার প্রায় ২৫ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের কৃষকবন্ধু প্রকল্পের মাধ্যে সেই ক্ষতি কৃষকদের যাতে পুষিয়ে দেওয়া যায় তারজন্য চেষ্টা চলছে প্রশাসনের তরফে।
চলতি বছরে ফসল ফলানোর জন্য এই মহকুমার অনেক চাষীরাই চড়া সুদে টাকা ধার নিয়ে জমিতে পটল, ঝিঙে, উচ্ছে, করলা, কাঁকরোল, পেঁপে,লঙ্কা ও কলা চাষ করেছিলেন। কিন্ত করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে এমনিতেই খেতের ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন কৃষকরা, তার উপর ইয়াসের তান্ডব এবং ভরা কোটালের জলে কপালে চূড়ান্ত দুর্ভোগ নেমে এসেছে চাষীদের।
এখন তারা কী করে সংসার চালাবেন আর কী করে ঋণ শোধ করবেন তা নিয়েই মহা দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। অন্যদিকে এই উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বারাসত মহকুমার দেগঙ্গা ব্লকেও কৃষিকাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে ঘুর্ণিঝড় ইয়াস। ভেডি অষূষিত এই এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইয়াসের ঝড়ো বাতাস আর নোনা জলে চাষের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে এখানে পাট, পটল ও তিন চাষে সবথেকে বেশী ক্ষতি হয়েছে। দেগঙ্গা ব্লকের কৃষি দফতর সুত্রে জানা গিয়েছে, ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে এই ব্লকের তিনটি মৌজার প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ বিঘা কৃষি জমিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

Post a Comment