বেচারাম মান্নার সঙ্গে বৈঠকের পরই খুশির হওয়া চা শ্রমিক মহলে
দি নিউজ লায়ন; শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্নার সঙ্গে বৈঠকের পরই খুশির হওয়া চা শ্রমিক মহলে। দীর্ঘ জট কাটিয়ে ১লা জুলাই খুলতে চলেছে মালবাজার ব্লকের বন্ধ বাগড়াকোট চা বাগান। চা বাগান এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের উদ্যোগ মন্ত্রীর। ২০১৫ সাল থেকে বাগানটি বন্ধ ছিল। ২০০০জম শ্রমিক রয়েছে এই বাগানে। সোমবার শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউজে উত্তরের সমস্ত শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পর শ্রম মন্ত্রী জানান মঙ্গলবার শ্রমিক ও মালিক পক্ষের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রয়েছে।
শ্রমিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে খোলা হবে বাগরাকোট চা বাগান। উত্তরবঙ্গে মোট ১৩টি চা বাগান বন্ধ ছিল। ইতিমধ্যেই বাগড়াকোট সহ আরও একটি চা বাগান খুলেছে। এদিন তিনি বলেন রাজ্য সরকারের চা সুন্দরী প্রকল্পের আওতায় উত্তরের ৭২২২জন শ্রমিক পরিবারকে বাড়ি তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ চা বাগানে ফাউলাই ১৫০০করে রাজ্যের তরফে ১১৭২২জনকে ইতিমধ্যেই দেওয়া হচ্ছে। আর কেন্দ্র শুধুই বুলি ঝাড়ছে। এদিন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্না জানান কেন্দ্রীয় সরকার চা বাগান শ্রমিক পরিবারের শিশু ও মহিলাদের উন্নয়ন খাতে ১৫০০০কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে।
অথচ সেই খাতে একটি টাকাও রাজ্যকে দেওয়া হয়নি। সেই টাকা আমরা পাচ্ছি না।রাজ্যের শ্রমিকদের প্রাপ্য টাকা রাজ্যকে না দিয়ে বঞ্চনা করছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের প্রতি তীব্র বঞ্চনার সুর আরও চড়াও করে তিনি বলেন সেই টাকা কিভাবে পাওয়া যায় তা ভারতীয় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগগুলির সঙ্গে কথা বলে আমরা দেখছি। একের পর এক মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। বাগান অধিগ্রহণ থেকে বন্ধ বাগান খোলার কথা বললেও তা কোনটিরই বাস্তবায়ন হয়নি।
অন্যদিকে তিনি বলেন রাজ্যের তরফে উত্তরবঙ্গের প্রতিটি চা বাগান এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।তার মন্তব্য ইন্টারনেট সংযোগ হলে শ্রমিকদের বেতনের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধে হবে। দেখা যায় শ্রমিকেদের চেক দেওয়া হলে তারা তা ব্যাংকে নগদে রুপান্তর করতে গেলে বেতনের একটা অংশ প্রতিমাসে তাদের কাছ থেকে কেটে নেয় ব্যাংক। যা বছর শেষে হিসেব কষে দেখা যায় প্রতি শ্রমিকের ১০০০টাকার মতো লোকসান হয়। তাই প্রতিটি বাগানে ইন্টারনেট সংযোগ হলে নেট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে তারা সহজেই টাকা তুলতে পারবেন।
ব্যাংক অবধি তাদের যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। শ্রমিক সংগঠনগুলিও তাই চায়। রাজ্যের তরফে ইন্টারনেট সংযোগের কাজের জোড় কদমে প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ব্যাংকের সঙ্গে আধার কার্ডের সংযোগ পদ্ধতি সরলীকরণের বিষয়েও ব্যাংকগুলিকে উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে কোভিড পরিস্থিতিতে সমস্ত চা বাগানের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিকে জেলাপ্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন তৃতীয় ঢেউ আসতে চলেছে তাই চা শ্রমিক পরিবারগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে জেলাশাসক ও স্বাস্থ্য দপ্তরের সহায়তায় সমস্ত চা-বাগানের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে জোড় আরোপ করা হচ্ছে। এদিন শ্রম দপ্তরের প্রধান সচিব বরুণ রায়, কমিশনার জাভেদ আখতার মন্ত্রী বুলু চিক এবং সমস্ত শ্রমিক সংগঠনগুলো বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান শ্রমিক সংগঠনের প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে আগামীতে প্রতিমাসে একবার বোর্ড ও সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকের ভাবনা চিন্তা রয়েছে।

Post a Comment