ইয়শের তাণ্ডবে প্লাবিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার গ্রামের পর গ্রাম
দি নিউজ লায়ন; বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং-১ ও ২,বাসন্তী, গোসাবা,সাগর,নামখানা,পাথর প্রতিমা সহ বিভিন্ন ব্লক ঘূর্ণিঝড় ইয়াশের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশ কিছু জায়গায় বাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম নোনা জল ঢুকে প্লাবিত হয়। ক্যানিং-২ ব্লকের করতোয়া নদীর জোয়ারের জলে প্লাবিত হল আঠারো বাঁকী অঞ্চলের হেদিয়া দাহারানী এলাকা।ফলে বহু ঘরবাড়ি,মাছ চাষীদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এদিকে সুন্দরবনের ক্যানিং মাতলা নদী, করতোয়া নদী,বিদ্যাধরী নদী, হেড়োভাঙ্গা নদী,গোমর নদী,হানা নদী,পিঁপড়েখালি নদী সহ বিভিন্ন নদীর গুলির ভাটিতে জল নীচের দিকে নেমে গেলে বিকাল থেকে তৎপরতার সাথে প্রশাসন বাঁধ সংস্কার কাজ শুরু করে জরুরি ভিত্তিতে।যেহেতু রাতেই আছে ভোরা কোটাল।ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে রাতেই নদী গুলির জোয়ারে জলের চাপ থাকবে অনেকটা বেশি।
এদিন এ ডি এম শঙ্খ সাঁতরা,ক্যানিং মহকুমা রবিপ্রকাশ মিনা, ক্যানিং-২ বিডিও প্রনব কুমার মন্ডল,গোসাবা বিডিও সৌরভ মিত্র,ক্যানিং-১ বিডিও শুভঙ্কর দাস,সেচ দফতরের আধিকারিক, ইঞ্জিনিয়ারা বিভিন্ন নদীর বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।পাশাপাশি গোসাবা ব্লকের রাঙ্গাবেড়িয়া অঞ্চলের পাখিরালয়,সজনেখালি পযটক কেন্দ্র, লাহিড়ীপুর সহ বিভিন্ন অঞ্চল নদীর বাঁধ ভেঙে এবং ওভারফ্লো তে নোনা জল ঢুকে প্লাবিত হয়।
পাখিরালয়ে বহু হোটেল,ঘরবাড়িতে নদীর জল ঢুকে যায়।ভেসে হাজার হাজার মাছ চাষের পুকুর।এদিকে বাসন্তী ব্লকের ঝড়খালি,নফরগঞ্জ, কাঠালবেড়িয়া, চড়াবিদ্যা সহ বিভিন্ন এলাকা নোনা জল ঢুকে প্লাবিত হয় একের পর এক গ্রাম।ক্যানিং-১ ব্লকের দিঘীরপাড়, ইটখোলা অঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকা নোনা জল ঢুকে প্লাবিত হয়।এর ফলে নদীর বাঁধ সংস্কারের জন্য এক দিকে যেমন গ্রামবাসীরা কোমড় বেঁধে নেমে পড়ছে বাঁধ মেরামতিতে।তেমনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলছে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারের কাজ।
পাশাপাশি বিভিন্ন ব্লক গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিপল সহ বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।ঘূর্ণিঝড়ের আগেই ক্যানিং মহকুমা প্রায় এক লক্ষ মানুষজন কে সাইক্লোন ও বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।এদিন ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবে গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি মন্দিরে জল ঢুকে যায়।ডায়মন্ডহারবারের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড সহ বিভিন্ন এলাকা হুগলি নদীর জলে প্লাবিত হয়।
সাগর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম চন্দ্র হাজরা, ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক পরেশ রাম দাস,ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক সওকাত মোল্লা,বাসন্তী কেন্দ্রের বিধায়ক শ্যামল মন্ডল সহ বিভিন্ন পঞ্চায়েতের প্রধান উপ প্রধানরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জলের পাউজ,শুকনো খাবার,ঔষধ সহ ত্রাণ সামগ্রী ব্যবস্থা করা হয়েছে।পাশাপাশি
রাতে ভরা কোটাল।আর এই ভরা কোটাল কি হয় তার দিকেই তাকিয়ে সুন্দরবনবাসী।

Post a Comment