সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ যুবক
দি নিউজ লায়ন; সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনেই বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত। তার মধ্যে একজন আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিজেপির আইটি সেলের দায়িত্বে রয়েছেন। ধৃতদের নাম রাহুল মৃধা এবং শ্যাম দাস। একজনকে সোনারপুর এবং অপরজনকে জীবনতলা থানা এলাকা থেকে রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বারুইপুর পুলিস জেলার সাইবার থানার ওসি জয়শ্রী নস্করের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য এসেছে।
জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে সাইবার থানার কাছে বেশ কয়েকটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট আসে। তাতে দেখা যাচ্ছে, দুই যুবক একাধিক সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর মতো পোস্ট করেছেন। বেশি সময় নষ্ট না করে এই দুজনের প্রোফাইল খুঁজতে নেমে পড়েন পুলিস আধিকারিকরা। বেশ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় এই দুই যুবকের অ্যাকাউন্টের উৎস জানা যায়। সেইমতো সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়। রাতেই জীবনতলা থানার ঘুটিয়ারি শরিফ এলাকা থেকে রাহুল মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকা থেকে পেশায় জলের ব্যবসায়ী এবং বিজেপি কর্মী শ্যাম দাসকে ধরা হয়।
সাইবার থানা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাহুলবাবুর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক পেজ তৈরি করা হয়েছিল যার মধ্যে প্রচুর সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক পোস্ট, বার্তা, ছবি ইত্যাদি রয়েছে। অপরদিকে শ্যামবাবু সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর মতো একটি পুরনো পোস্ট নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।
বিজেপির আইটি সেলের দায়িত্বে থাকা ওই নেতা অবশ্য তাঁর গ্রেপ্তারি নিয়ে অনুতপ্ত নন। বাকস্বাধীনতা আছে তাই তিনি তাঁর মতো করে পোস্ট করেছেন। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ কে এমন সাফাই দিয়েছেন তিনি। যদিও অপর ধৃত ব্যক্তি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। সূত্রের খবর, যেই পোস্ট শেয়ার করে গ্রেপ্তার হয়েছেন শ্যামবাবু, ঠিক একই পোস্ট শেয়ার করে রবিবার মহেশতলার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ।
পুলিশ মহলের দাবি, সাধারণত এই সব অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে কমপক্ষে সাত দিন লেগে যায়। কিন্তু বারুইপুর পুলিস জেলার সাইবার থানা যে তৎপরতার সঙ্গে এই অভিযোগ মীমাংসা করেছে, তা প্রশংসনীয়। ধৃতদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বেশিরভাগ উস্কানিমূলক পোস্ট মুছে দেওয়া হয়েছে। সাইবার থানার ওসি বলেন, উস্কানিমূলক এবং হিংসা ছড়ানোর মতো পোস্ট করা থেকে যাতে সাধারণ মানুষ বিরত থাকেন, সেই আবেদন করা হচ্ছে। অন্যথায় পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।


Post a Comment