4.57আপ শান্তিপুর ট্রেনে পরিত্যক্ত সদ্যোজাত দেড় মাসের বাচ্চা কে ঘিরে চাঞ্চল্য
দি নিউজ লায়নঃ ট্রেনের বাঙ্কে বা সিটের তলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ব্যাগ, জলের বোতল, ছাতা অনেক কিছুই পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়ে থাকেন অনেকেই ।কিন্তু শুনেছেন কি কখনো। সদ্যজাত ফুটফুটে দেড় মাসের বাচ্চা শুয়ে রয়েছে সিটের দুই সারির মাঝখানে। পাশেই ছিলো কিছু ছোটখাটো প্লাস্টিকের ব্যাগে জামা কাপড়, সম্ভবত শিবরাত্রির কিছু গোটা ফল।
এমনই ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার , 4.57আপ শিয়ালদা শান্তিপুর লোকালে। প্রচণ্ড ভিড়ের মাঝে কেউ হয়ত খেয়াল করেনি, তবে রানাঘাট এবং কালীনারায়নপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার পরে, ভীড় কমে এর পরই লক্ষ করা যায় সিটে ।শান্তিপুর পাবনা কলোনির সুমিত্রা সরকার পেশায় রেডিমেড জামা কাপড় ব্যবসায়ী কলকাতা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ফেরি করেন। প্রতিদিনই সকাল 7:30 ট্রেনে কলকাতায় যান, আর ফেরেন 5:50 আপ গেলপিন শান্তিপুর লোকালে, তবে শুক্রবার একটি ট্রেন আগেই ফিরছিলেন বাড়িতে অর্থাৎ শান্তিপুর ষ্টেশনে 6:33 মিনিটে শান্তিপুরে ঢোকার ট্রেনে।
দুই একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে সুমিত্রা সরকার নামের ওই মহিলা মানুষের কোলাহলের মধ্যে থেকে কোলে তুলে নেন শিশুটিকে। এরপর সোজা শান্তিপুর আরপিএফ এর কাছে। আরপিএফ ফোন করে চাইল্ড লাইন কে, তার মধ্যেই শিশুটি শারীরিক অবস্থা কেমন আছে তা জানার জন্য শান্তিপুরের জেনারেল হাসপাতালে দেখিয়ে নিয়ে আসে রেল কর্তৃপক্ষ। সম্পূর্ণ সুস্থ থাকার কারণে, চাইল্ড আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আইন ভুলে মানবিকতার কারণে
মাতৃস্নেহে, কোলে তুলে নেওয়া শিশুটির নতুন জীবন দানকারী সুমিত্রা সরকার, জানান তিনি এক কন্যা এবং এক পুত্রের জননী, অতশত না বুঝে প্রথমেই মনে হয়েছিল তার প্রাণ বাঁচানোর একজন মা হিসেবে জরুরী।
রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়,পরিত্যক্ত দু একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ এর মধ্য থেকে একটি ফোন নাম্বার পাওয়া যায়, তবে ওই ফোন বেশ কিছুক্ষণ সময়ের জন্য নট রিচেবল লক্ষ্য করা গেছে। এখনও পর্যন্ত বাচ্চাটির কোনো পরিবারের ঠিকানা বা খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি। তবে চাইল্ড লাইন রানাঘাটে শিশুদের রাখার সরকারি এস এ এ তে আপাতত ব্যবস্থা করেছে বলেই জানা যায় চাইল্ড লাইন সূত্রে।

Post a Comment