মিয়ানমারে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪
দি নিউজ লায়ন; দুই মাসের মধ্যে মিয়ানমারে সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন দেখল সারা বিশ্ব। শনিবার (২৭ মার্চ) ছিল মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দিবস। আর এই দিনেই দেশজুড়ে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ জনে।
এ ঘটনায় নতুন করে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। দেশটিতে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ড্যান চুগ বলেছেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নিজেদেরকে অপমানিত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দূত সেনাবাহিনীর এই কর্মকাণ্ডকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তারা থাই সীমান্তের কাছে সেনাবাহিনীর একটি নিরাপত্তা চৌকি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এতে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল-সহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। তবে সেখানে সংঘাতে জাতিগত সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর এক সদস্যেরও প্রাণ গেছে। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার শিকার হওয়ার পর শনিবার সংখ্যালঘু কারেন জাতিগোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত গ্রামে বিমান হামলা চালায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এতে কমপক্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাজধানী নেইপিদোতে কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লেইং বলেন, দেশের জনগণের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় সামরিক বাহিনী। অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে অং সান সু চির মুক্তি ও গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিদিনই বিক্ষোভ করে আসছেন সাধারণ মানুষ। শনিবারও তারা ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়সহ অন্য শহরগুলোতে বিক্ষোভ শুরু করেন। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী দিবসে গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভকারীদের ওপর রক্তাক্ত অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনী।
নির্বিচারে গুলি চালিয়ে নারী-শিশুসহ হত্যা করা হয় শতাধিক বিক্ষোভকারীকে। বার্মিজ গণমাধ্যম মিয়ানমার নাউ জানিয়েছে, শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দেশজুড়ে ১১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ বছরের এক মেয়ে শিশুসহ কেবল মান্দালয় শহরেই নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০ জন। দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৭ জন।
নিহতের এই সংখ্যা মিয়ানমারের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও রয়টার্স ও আলজাজিরা’র মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তা খতিয়ে দেখতে পারেনি। অবশ্য এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে রয়টার্স।

Post a Comment