অজানা এক আতঙ্ক তাড়া করছে মদন অনুগামীদের, কিন্তু কেন?
দি নিউজ লায়নঃ বাংলায় একুশের নির্বাচনী প্রচারে নেতাই থেকে পেটাইয়ের হুঙ্কার ছেড়ে তিনি প্রথম রাজ্য রাজনীতিতে জানান দিয়েছিলেন মদন মিত্র আছেন মদন মিত্রেই। এরপর থেকে তৃণমূলের প্রতিটি জনসভায় তিনি বাড়িয়ে চলেছিলেন বক্তব্যের ঝাঁঝ। কার্যত বিজেপিকে কোণঠাসা করে একের পর আক্রমণ এবং কটাক্ষে তিনি রাজনীতিতে রীতিমতো আলোচনার মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন। সেই সময়ই অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, সারদা কান্ডে জেল থেকে মুক্তি পাওয়া মদন মিত্র যেভাবে রাজনীতিতে সুর চড়াচ্ছেন এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা যেভাবে ভোটের আগে সারদা তদন্তের গতি বাড়াচ্ছেন, তাতে ফের তাঁর বিপদ ঘনিয়ে আসবে না তো!
আর ঠিক সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। ভোটের মুখে সারদা কান্ডে গতি বাড়ালো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেকট। ফলে এবারে ইডির স্ক্যানারে উঠে এলো মদন মিত্রের নাম। কয়েকদিন আগেই তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে তলব করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারীকরা। যদিও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভোটের মুখে এই সক্রিয়তাকে রাজনৈতিক অভিসন্ধি বলে মনে করছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
তবে বিজেপির দাবি, তারা তদন্তকারী সংস্থাকে কোনওভাবেই প্রভাবিত করে না। তবে দুই পক্ষের চাপানউতোর যাই চলুক না কেন, ভোটের মুখে সারদা কান্ডে গতি বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এটা বেশ স্পষ্ট। এদিকে জানা গিয়েছে, আগামী ১৮ মার্চ ইডির দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে কামারহাটি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্রকে। মূলত সারদা তদন্তে বেশ কিছু নয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফের মদন মিত্রকে জেরা করতে চাইছেন ইডির তদন্তকারী আধিকারীকরা।
উল্লেখ্য, এর আগে সারদা তদন্তে মদন মিত্রকে গ্রেফতার করে সিবিআই। এক বছরের বেশী সময় জেলে কাটাতে হয় তাঁকে। জেলে বসেই কামারহাটিতে গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন তিনি। এবারেও সেই কামারহাটিতে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন মদন মিত্র। আর তারপরেই ফের সারদা কান্ডে জেরার মুখোমুখি হতে চলেছেন তিনি।
ফলে অজানা এক আতঙ্ক তাড়া করছে মদন অনুগামীদের মধ্যে। অবশ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও একাধিকবার ইডি এবং সিবিআইয়ের তলবে হাজিরা দিয়েছিলেন মদন মিত্র। তবে প্রার্থী হওয়ার পর ইডি মদন মিত্রকে তলব করায় আশঙ্কার কালো মেঘ ক্রমশ যেন ঘণীভূত হচ্ছে। এর আগে কুণাল ঘোষকে জেরা করে ইডি। জানা যায়, সারদা কান্ডে অন্যতম অভিযুক্ত দেবযানি মুখোপাধ্যায়কে জেরা করে ও বিভিন্ন জায়গাত তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া বেশ কিছু নতুন তথ্যের ভিত্তিতে কুণাল ঘোষকে জেরা করে ইডি। আর সেই সুত্রে তদন্তের আরও গভীরে যাওয়ার জন্যই মদন মিত্রকে তলব করলো ইডি। আর এখানেই বাড়ছে সন্দেহ, বাড়ছে আশঙ্কা…।

Post a Comment