অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রকে অপহরণ করে খুন
দি নিউজ লায়নঃ অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রকে বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে খুন করার অভিযোগ উঠলো দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পুখুরিয়া থানার পরানপুর এলাকার কালিতলা গ্রামে। দীর্ঘক্ষন খোঁজার পর বাড়ির সামনে পড়ে থাকা একটি সাদা কাগজের লেখা চিঠি দেখেই অপহরণের বিষয়টি জানতে পারে ওই ছাত্রের পরিবার। আর গভীর রাতেই বাড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে ঝোপঝাড়ের মধ্যেই ওই ছাত্রের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মৃত ছাত্রের পরিবার তার ছেলের কয়েকজন নাবালক বন্ধু এবং একটি পরিবারের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুখুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পাশাপাশি চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ওই ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধারের পর মালদা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম অনিক দাস (১৩)। সে পরানপুর হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত ছিল। এলাকায় সম্ভ্রান্ত হিসেবে পরিচিত রয়েছে দাস পরিবার। মৃত ছাত্রের গলায় ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তাতেই প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে তাকে। মৃত ছাত্রের বাবা আশিষ কুমার দাস পুলিশকে অভিযোগে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ছেলে অনিক দাস বাড়ির বাইরে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলছিল। এরপর সেখান থেকে হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যায় ছেলে।
আমরা ছেলেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাই নি। এরপর বাড়ির সামনে একটি চিঠি পাওয়া যায় যাতে লেখা ছিল অনিককে অপহরণ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই পরিবারের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে পাড়া-প্রতিবেশী জমায়েত হন।এরপর খুঁজাখুঁজি শুরু করে প্রতিবেশীরা। মৃত ছাত্রের বাবা আরো বলেন, ঘটনার প্রায় দু'ঘণ্টা পর অনিকের বাড়ি থেকে প্রায় ২৫ মিটার দূরে এক পরিত্যক্ত জায়গায় তার মৃতদেহ দেখতে পান এলাকাবাসীরা। ঘটনার খবর দেওয়া হয় পুখুরিয়া থানায়।
খবর শুনে তড়িঘড়ি ছুটে আসে পুখুরিয়া থানার পুলিশ সহ বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, মৃত ছাত্রের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অনিকের সহপাঠী, অংশু দাস, তার দাদা লাকি দাস, মা অনিতা দাস এবং এক প্রতিবেশী যুবতী মেধা দাসকে আটক করেছে পুখুরিয়া থানার পুলিশ। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে কি কারণে খুন এখনো পুলিশের কাছে পরিষ্কার নেই। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুখুরিয়া থানার পুলিশ।

Post a Comment