খামেনির অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করল টুইটার - The News Lion

খামেনির অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করল টুইটার




আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে টুইট করায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির টুইটার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।  এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) খামেনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি যুদ্ধবিমানের ছায়ায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গলফ খেলছেন এমন একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। এর জেরেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় এই নেতার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করল টুইটার কর্তৃপক্ষ। 


 টুইটারে খামেনি তার পোস্টে ২০২০ সালে নিহত ইরানের বিপ্লবী গার্ডের অভিজাত শাখা কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার কথাও জানিয়েছিলেন।  বৃহস্পতিবারের ওই পোস্টে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে খামেনি বলেন, ‘প্রতিশোধ অনিবার্য। সোলেইমানির হত্যাকারী ও যিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন তারা অবশ্যই প্রতিশোধের মুখোমুখি হবে। যেকোনো সময় প্রতিশোধ নেয়া হতে পারে।’ 


 এর আগে, বুধবার জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করেই ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ত্যাগ করে ফ্লোরিডায় তার মার-এ-লাগো গলফ ক্লাবে চলে যান।  চলতি মাসের শুরুর দিকে সোলেইমানি হত্যার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ইরানের প্রধান বিচারপতি ইব্রাহিম রাইসি সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘ট্রাম্প বিচারের ঊর্ধ্বে নয় এবং সোলেইমানির হত্যাকারীরা পৃথিবীর কোথাও নিরাপদে থাকবে না।’ 


 উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ জানুয়ারি কাসেম সোলেইমানি তার লোকজন নিয়ে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার পরপরই মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হামলার সময় সোলেইমানির সঙ্গে নিহত হন ইরাকি কমান্ডার আবু আল-মাহদিসহ আরও কয়েকজন।  গত বছরের ডিসেম্বরে তেহরানের প্রসিকিউটর আলি আলকাসিমের বলেছিলেন, ইরান আইনি পদ্ধতিতে সোলেইমানি হত্যার নির্দেশ ও সংঘটনে জড়িতদের সন্ধান করছে। এক্ষেত্রে ইন্টারপোলের সহযোগিতাও নেয়া হচ্ছে। অপরাধীদের মধ্যে ৪৫ মার্কিন নাগরিক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 


  ১৩৫ বছর ধরে গাছে ঝুলছে সেলাই মেশিন! গাছে ঝুলছে সেলাই মেশিন! তা-ও আবার ১৩৫ বছর ধরে। অবাক করা বিষয় হলেও সত্যি এমনটি ঘটেছে। মনে আছে, নিউজিল্যান্ডের ‘তে ওয়াইরোয়া’র অগ্ন্যুৎপাতের কথা? তখন ঘটেছিল এমন ঘটনা। ১৮৮৬ সালে নিউজিল্যান্ডের মাওরি উপজাতিদের এলাকা ‘তে ওয়াইরোয়া’ গ্রামটি অগ্ন্যুৎপাতের লেলিহান শিখায় মুখ থুবড়ে পড়ে। সেদিন গ্রামবাসী নিরাপদ আশ্রয়টুকুও নিতে পারেনি। যে অবস্থায় তারা ছিলেন; সেভাবেই পুড়ে মমি হয়ে গিয়ে ছিলেন। আজও এ গ্রাম থেকে বিভিন্ন মানুষের কঙ্কাল ও হাড়ের সন্ধান পাওয়া যায়। 


এরই মধ্যে তে ওয়াইরোয়া নগরী ও তার আশেপাশের এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র। সেগুলো রাখা হয়েছে ‘তে ওয়াইরোয়া’র প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহশালায়। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো সেলাই মেশিন। এর বিশেষত্ব হলো, আগুনের তোড়ে সেটি কালের সাক্ষী হতে উঠে বসে গাছে! গাছের দুই ডালের মাঝে জায়গা করে নেয়। এরপর কেটে গেছে ১৩৫ বছর! একইভাবে গাছে বসে ছিল মেশিনটি যুগ যুগ ধরে। পরে অবশ্য গাছটি পচে যাওয়ায় কেটে ফেলা হয়। এরপর গাছ থেকে নামানো হয় সেলাই মেশিনটি।


 ঐতিহাসিক নিদর্শনটির এখন জায়গা হয়েছে ‘তে ওয়াইরোয়া’র প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহশালায়। ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জুন মাউন্ট তারাওয়েরার অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় ‘তে ওয়াইরোয়া’ গ্রাম। আগুনের ধ্বংসলীলায় প্রাণ হারান ১২০ জনের বেশি। ‘তে ওয়াইরোয়া’ আজও সেই ক্ষত বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে গ্রামের আখ্যা পেয়েছে স্থানটি। ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ধর্মপ্রচারক সেমৌর মিলস স্পেনসার।


 এরপর থেকে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত উষ্ণ প্রসবণ ‘পিঙ্ক অ্যান্ড হোয়াইট টেরেস’ দেখতে যাওয়ার পথে এ জনপদে বিশ্রাম নিতেন পর্যটকরা। প্রথমে ভাবা হয়েছিল ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে আগ্নেয়গিরি তারাওয়ের’র অগ্ন্যুৎপাতে বিলীন হয়ে গিয়েছে বিখ্যাত দু’টি উষ্ণ প্রসবণও। পরে প্রসবণ দু’টির অস্তিত্বের খোঁজ মেলে। ‘তে ওয়াইরোয়া’ এখন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এক স্থান। সেখানকার ওয়াইরোয়া ঝরনা, রোটোকাকাহি হ্রদ এবং তারাওয়েরা হ্রদ পর্যটকদের কাছে অন্যতম দর্শনীয় স্থান।


 ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামটি খননের ফলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা বেশ কিছু জিনিস আবিষ্কার করেন। তারা সব কিছুই আগ্নেয়গিরির ছাই এবং কাদার নিচ থেকে উদ্ধার করেন। মাওরি উপজাতিদের অতীত জনপদের সেই জিনিসগুলো দেখতে ভিড় জমান পর্যটকরা। রোটোরুয়া শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে এ ঘুমন্ত গ্রামে সাজানো আছে পাথরের তৈরি গুদামঘর, মাওরিদের নৌকা এবং কামারশালা। 


প্রত্নতাত্ত্বিক এসব জিনিসগুলো সংগ্রহ করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ‘তে ওয়াইরোয়া’র সংগ্রহশালায়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এ মৃত জনপদ কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পত্তি। ১৯৩১ সালে ‘তে ওয়াইরোয়া’ কিনে নেন এক দম্পতি- রেগ এবং ভি স্মিথ। সে সময় এ জমিতে একটি মাত্র বাড়ি ছিল। স্মিথ দম্পতি কিনে নেওয়ার পরে ওই গ্রামে শুরু হয় খননকাজ। এখন রেগ এবং ভি স্মিথ দম্পতি পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম ভুতুড়ে গ্রামটির মালিকানা লাভ করেছেন। স্থানটির দেখভাল ও প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিসগুলো সংরক্ষণে তারাও যথেষ্ট যত্নবান। ভুতুড়ে পরিচয় পেলেও ‘তে ওয়াইরোয়া’ গ্রামটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.