রাজ্য বন বিভাগের উদ্যোগে চালু হলো পর্যটকদের জন্য ন্যাচারাল পাখিরালয়
দি নিউজ লায়ন ; দীর্ঘ অপেক্ষার পরে সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে গড়ে ওঠা ছাই পুকুরে (অ্যাস পন্ড) শুক্রবার থেকে পর্যটকদের জন্য চালু হলো আধুনিক মানের 'ন্যাচেরাল পাখিরালয়'। সুদূর সাইবেরিয়া ও তিব্বত থেকে আসা পরিযায়ীদের দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায় এদিন। বিশাল ছাই পুকুরের বেশির ভাগ অংশ মজে যাওয়ায় এইসব পরিযায়ীদের স্বচ্ছন্দে থাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল বহুদিন ধরে।
অবশেষে নজরদারি মধ্যে দিয়ে ফলে এদিন তা চালু করা হয়, আগামী দিনে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পক্ষীপ্রেমীরা। তবে, পরিযায়ীদের শিকার ও চোরাচালান রুখতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। তাপবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষও টহলদারি চালাচ্ছে। মুর্শিদাবাদের ডিএফও ডঃ প্রদীপ বাড়ুই বলেন, সরকারিভাবে পাখিসুমারি শুরু হয়েছে, সম্পূর্ণ তথ্য হাতে পেতে আরও কদিন সময় লাগবে। তারপর, পাখির সংখ্যা বলা সম্ভব হবে"।
জানা গিয়েছে, সাগরদিঘির পিডিসিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই পুকুরে অসংখ্য পরিযায়ী পাখি এসে ভিড় করে। এবার জানুয়ারি মাসে জাঁকিয়ে শীত পড়তেই কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখির দেখা মিলেছে। একটি বেসরকারি বার্ড ওয়াচার সোসাইটির মতে, পরিযায়ীর সংখ্যা প্রায় ৬-৭ হাজারের মতো। অধিক সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে বালিহাঁস, এছাড়া রাশিয়া ও তিব্বত থেকে উড়ে আসা গ্রেল্যাক গুজ দেখা গিয়েছে।
এছাড়া, কমনটিল, রেড হেডেড পচার্ডের দেখা মিলেছে। তবে, পাখিপ্রেমী সংগঠনের দুই সদস্য সৌম্যদ্বীপ মণ্ডল ও ভাস্কর মল্লিক সাগরদিঘির ছাই পুকুরের পাখি পরিদর্শনে এসে বলেন, আসলে ছাই পুকুরটি ভর্তি হচ্ছে, তাদের থাকার জায়গা ও খাবার কমে যাচ্ছে।গতবছর সরকারিভাবে পাখিসুমারি হয়নি। তবে, লকডাউন ও দূষণ কম হওয়ার কারণে পাখি বেশি আসার কথা।
সুমারি বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে, সাগরদিঘিতেও শীঘ্রই গণনা শুরু হবে"।জঙ্গিপুরের এসডিপিও বিদ্যুৎ তরফদার বলেন, এই ন্যাচারাল পাখিরালয় পর্যটক এলাকার মানুষের কাছে একটা বিশাল পাওনা। যাতে কোনোভাবেই এর গুরুত্ব নষ্ট না হয় সেদিকে কড়া পুলিশি নজরদারি ব্যবস্থা করা হয়েছে"।

Post a Comment