রাম বাম যোগের তত্ত্ব পরিষ্কার করলেন শুভেন্দু অধিকারী
দি নিউজ লায়ন ; শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা টাউন থানার জয়ন্তী পুরে বিজেপি দলের পক্ষ থেকে এক সভার আয়োজন করা হয়।ওই সভায় রাম বামের তত্ত্ব পরিষ্কার করে দিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।তিনি তার ভাষণে বলেন লালঝান্ডা নিয়ে মিছিল করছো বাম পন্থী ভাই এরা তাতে কোন অসুবিধা নেই।
কিন্তু তোমাদের ভোট দিতে হবে বিজেপির পদ্মফুলে।যদি বিজেপি কে ভোট না দাও তাহলে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারবে না।তাই বিজেপি ক্ষমতায় এলে আপনারা মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারবে।এরা চার বছর কলেজে ছাত্র সংসদের ভোট করেনি,বিদ্যালয় গুলিতে পরিচালক কমিটির ভোট বন্ধ করে দিয়েছে।তাই তিনি বাম পন্থী ভাই ও বন্ধুদের পদ্মফুলে ভোট দেওয়ার জন্য সরাসরি আবেদন জানান। যার থেকে প্রমাণিত রাম আর বামএক হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে কাজ করবে।সেই সঙ্গে তিনি বলেন
গোটা ভারতবর্ষে যদি সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ কেউ হয় তিনি হলেন তৃণমূল কংগ্রেস আর তার নেত্রী।শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা টাউনের জয়ন্তী পুরে বিজেপির জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এইদিন চন্দ্রকোনা র জয়ন্তীপুরে বিজেপির যোগদান মেলা ও জনসভার আয়োজন করা হয়।সেই জনসভার মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সহ সভানেত্রী ভারতী ঘোষ, ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অন্তরা ভট্টাচার্য, অমূল্য মাইতি সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব।
এদিন জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগাগোড়া তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ও ভাইপোকে কার্যত নিশানা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদান করার পর থেকে তাকে বেইমান মীরজাফরের আখ্যা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব।সেই জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আঙ্গুল তুলে কার্যত সেই সুর টানলেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন কংগ্রেসের মন্ত্রিত্ব এবং বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ সহ একাধিক প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ তৃণমূল কংগ্রেস ও তার নেত্রী এভাবেই কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু অধিকারী, পাশাপাশি মহামারি ভাইরাসের টিকা প্রসঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী কে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না শুভেন্দু অধিকারী।
টিকা সম্বন্ধে তিনি বলেন এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্রেডিট নিতে পারলেন না তাই তিনি বলছেন অল্প টিকা এসেছে। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কিছু ভাবতে হবে না ভারতবর্ষের টিকা নেওয়ার জন্য বহু প্লেন দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়াও শুভেন্দু অধিকারী ওই সভায় বলেন সিপিএম নেতা সুকুমার সেনগুপ্ত, বিনয় চৌধুরী, সরোজ মুখার্জি, সিপিআই নেত্রী গীতা মুখার্জী ,বিশ্বনাথ মুখার্জী কে আমি এখনও সম্মান করি, কিন্তু লক্ষ্মণ শেঠ কে সম্মান করি না।
সিপিএম অনেক ভালো কাজ করেছিল, দু-তিনটি খারাপ কাজ করেছিল। তবুও সিপিএমের আমলে এসএসসি চালু ছিল। ২০১৪ সাল থেকে এসএসসি বন্ধ। সিপিএম যখন ক্ষমতায় ছিল তখন রাজ্যে বেকার ছিল এক কোটি কুড়ি লক্ষ, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে দু কোটি বেকার। একটাও কল কারখানা চালু হয়নি ।তিনি দুয়ারে সরকারকে যমের দুয়ারে সরকার বলে কটাক্ষ করেন। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পকে ঢপের প্রকল্প বলে কটাক্ষ করেন।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন এটা তৃণমূল দল নয় এটা একটা কোম্পানি। তাই তিনি তৃণমূলকে বিদায় দেওয়ার আবেদন করেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন এখন এরা চাল চুরি করছে, গরু পাচার করছে, কয়লা চুরি করছে, আমফানের টাকা চুরি করছে। যদি ২০২১সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৪৮টি আসন পায় তাহলে এরা মানুষের কিডনি চুরি করবে।
তাই তিনি বিজেপিকে ভোট দিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আনার দাবি জানান। অন্যদিকে ভারতী ঘোষের গলায় একই সুর শোনা যায় কার্যত তিনিনিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে। কার্যত এক কথায় বলা যেতে পারে বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে রাজনৈতিক তরজা আরো যে জোরালো হচ্ছে এটাই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কারীরা।

Post a Comment