শুভেন্দু অধিকারী কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন দাঁতনের বিধায়ক বিক্রম প্রধান
দি নিউজ লায়ন ; শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন দুই ব্লকের হরি পুর এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি ও কৃষি নীতির প্রতিবাদে ধিক্কার মিছিল ও সভার আয়োজন করে হরিপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস। ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেন দাঁতন এর বিধায়ক বিক্রম প্রধান ও দাঁতন দুই ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ।মিছিলে কয়েক হাজার মানুষ শামিল হয়েছিলেন। সবচেয়ে উপস্থিত ছিল বেশি মহিলাদের ।যার ফলে খুশি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার হরিপুর এর সভা থেকে তীব্র ভাষায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করেন দাঁতন এর বিধায়ক বিক্রম প্রধান। তিনি তার ভাষণে বলেন কেন্দ্র সরকার একের পর এক জনবিরোধী নীতি লোকসভায় গায়ের জোরে পাস করিয়ে মানুষকে পথে বসাতে চলেছে ।লোকসভা ও রাজ্যসভায় গায়ের জোরে কৃষি বিল পাস করিয়ে কৃষকদের সর্বস্বান্ত করার চক্রান্ত করছে, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোকে বিক্রি করে দিচ্ছে, কেন্দ্র সরকার এমনকি রেল কে বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করেছে। আর সেই কেন্দ্র সরকারের প্রশংসা করছেন বেইমান শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকতেন তাহলে শুভেন্দু অধিকারী আজকের শুভেন্দু অধিকারী হতেন না। তৃণমূল থেকে দুধ খেয়ে বড় হয়ে আজকেবিজেপি দলে যোগদা ন করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কুৎসা করে প্রচার করছেন। উনার মুখে তৃণমূলের অপপ্রচার মানায় না। কারন উনার বাবা ও ভাই এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। তাই উনি তৃণমূলকে চোর বললেও উনার বাবা ও ভাইয়ের গায়ে লাগে। তা সত্ত্বেও লাগামহীনভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস তাকে মর্যাদা দেয় নি। তিনি তিনটা দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন ,বহু সরকারী পদে ছিলেন, এরপরেও কি মানুষ ভাববে যে তাকে কোনো মর্যাদা দেওয়া হয়নি ।তিনি বলেন বাংলার মানুষ যেমন মীরজাফরদের বিশ্বাস করে না তেমনি শুভেন্দু অধিকারীর মতো বিশ্বাসঘাতক কে ও বাংলার মানুষ আগামী দিনে বিশ্বাস করবে না। উনি বলেন বাংলাকে মোদির হাতে তুলে দেওয়া হবে ,বাংলা জয়নগরের মোয়া নয়, বাংলা ওনার সম্পত্তি নয়, বাংলা বাঙালির সম্পত্তি ,বাংলার মানুষের সম্পত্তি, বাংলাকে যেমন আমরা গুজরাট হতে দেবোনা, বাংলা বাংলায় থাকবে।তেমনি নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দেবো না। যে নরেন্দ্র মোদির হাত গুজরাট দাঙ্গায় রক্তে লাল হয়ে রয়েছে।
সেই নরেন্দ্র মোদির হাতে বাংলাকে তুলে দেওয়ার শপথ নিচ্ছেন বেইমান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সর্বস্তরের মানুষকে ওই বেইমান শুভেন্দু অধিকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন বিজেপি আর নয় অন্যায় কর্মসূচি অন্যায় করেছে। ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বামেরা। হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি লুট হয়েছে। তা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষ কে বলেছিলেন আমি বদলা নয় বদল চাই। তাই ক্ষমতায় আসার পর তিনি উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে।
যে এলাকাগুলি অশান্ত ছিল সেই এলাকাগুলিতে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন। মানুষকে বিনামূল্যে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে চিকিৎসার জন্য কার্ড দেওয়া হয়েছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার জন্য সাইকেল দেওয়া হয়েছে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে, একশো দিন প্রকল্পের কাজ হচ্ছে, বাংলা আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো কি অন্যায়।
তাই ওই বেইমান শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছে যে তিনি কেন সাড়ে চার বছর মন্ত্রী ছিলেন। কুড়ি বছরের বেশি তৃণমূল থেকে তিনি তখনও বুঝতে পারেনি তৃণমূল দলটা চোর। আসলে নিজের জেলে যাওয়া আটকাতে অমিত শাহের পায়ে ধরে তিনি বিজেপি দলে যোগদান করেছে ।এই সেই বিজেপি যখন শুভেন্দু অধিকারীকে নারদ কান্ডে অভিযুক্ত করে তার টাকা নেওয়ার ফুটেজ দলীয় কার্যালয়ে বা ওয়েবসাইটে দিয়েছিল এবং এই সেই শুভেন্দু অধিকারী কে বিজেপি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিল।
আজকে সমস্ত কিছু ভুলে শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপি দলে নিয়ে বিজেপি বড় বড় কথা বলছে। তাই এই সভা থেকে সকলেই শপথ নেন তারা মমতার পাশে রয়েছেন, বাংলা তথা বাঙালির পাশে রয়েছেন। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দাঁতন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে উৎখাত করার ডাক দেন ওই সভায় উপস্থিত তৃনমূলের নেতারা।

Post a Comment