প্লাস্টিকের বল আকারের বোমা উদ্ধারে চাঞ্চল্য
দি নিউজ লায়নঃ মালদার কালিয়াচক থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় প্লাস্টিকের বল আকৃতির বোমা উদ্ধারের ঘটনায় বিশদ তথ্য হাতে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের মধ্যে। রীতিমতো ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে এবং বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত কায়দায় তৈরি করা হয়েছে প্লাস্টিকের ক্রিকেট বল আকৃতির এই বোমা-গুলি। যা প্রচলিত ভাষায় ককটেল-বোমা হিসাবেই পরিচিত। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একসঙ্গে প্রায় ৪০০ এই ককটেল বোমা উদ্ধারের পর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে কালিয়াচক থানার অন্তর্গত গোলাপগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ কর্তাদের।
বুধবার রাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সাইলাপুর এলাকায় বাঁশঝাড়ের মধ্যে থেকেই এই বিপুল পরিমান ক্রিকেট বল আকৃতির বোমাগুলি উদ্ধার করে পুলিশ। গভীর রাতে সেগুলি সংশ্লিষ্ট এলাকার একটি জলাশয়ের ধারে নিষ্ক্রিয় করে রাজ্য পুলিশের বম স্কোয়াড বাহিনী। কিন্তু এত আধুনিক মাপের বোমা বিপুল পরিমাণে কিভাবে বাঁশঝাড়ের মধ্যে মজুদ হলো, তা নিয়ে ইতিমধ্যে জেলার গোয়েন্দা কর্তারা ময়নাতদন্ত শুরু করে দিয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে কয়েকজন দুষ্কৃতী জড়িত থাকার আঁচও পেয়েছে তদন্তকারী পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তারা। সেইসব দুষ্কৃতীদের সন্ধান চালানো শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রিকেট বল আকৃতির এই বোমা-গুলিতে রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। প্লাস্টিকের বল যেগুলি মুদি থেকে যেকোন স্টেশনারি দোকানে বিক্রি হয়, সেইসব প্লাস্টিকের বল এই বোমা তৈরীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। ছোট আকৃতির হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী এই বোমাগুলি। বাংলাদেশে বিভিন্ন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন এবং দুষ্কৃতীরা এই ধরনের বোমা ব্যবহার করে থাকে বলেও প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। সুপার সীমান্তে বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় এই ধরনের বোমা ব্যবহারের অভিযোগ পুলিশের হাতে এসেছে। বাংলাদেশের প্রচলিত ভাষায় এটিকে ককটেল-বোমা বলা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে গোলাপগঞ্জ এলাকায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল দুই জনের। সেই সময়েও এই একই ধরনের প্লাস্টিকের বল আকৃতির বোমা উদ্ধার হয়েছিল। বারবার কালিয়াচকের সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের বোমা উদ্ধার হচ্ছে , তা নিয়ে অবশ্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তারা। এর পিছনে সীমান্তের ওপারের দুষ্কৃতীদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও মনে করছেন একাংশ পুলিশ কর্তারাও।
বুধবার রাতে এই বোমা উদ্ধারের ঘটনার পর পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তারা। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে , এই ধরনের বোমা দুষ্কৃতীরা ইন্টারনেট ঘেঁটে তৈরি করে থাকতে পারে। কারণ বিগত দিনে দেখা গিয়েছে বেশ কিছু ওয়েবসাইট এমন রয়েছে যেখানে এই ধরনের অপরাধমূলক কাজের ফর্মুলা খোঁজার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। হয়তো সেই সবথেকে এই ধরনের বোমা তৈরীর দক্ষতা অর্জন করে থাকতে পারে দুষ্কৃতীরা। আবার পুলিশের একটি অংশ মনে করছে, সীমান্তের ওপারের দুষ্কৃতীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এপার সীমান্তের দুষ্কৃতিরাই এই ধরনের বোমা বাধার কাজে তৎপর হয়ে উঠেছে।
এত বিপুল পরিমান বোমা বাঁশঝাড়ের মধ্যে কতদিন ধরে মজুত করা ছিল কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা নিয়েও জোর তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তারা। পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, কালিয়াচকে বোমা উদ্ধারের ঘটনার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। যে বোমা গুলি উদ্ধার হয়েছিল সেগুলি ঘটনার রাতেই নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়েছে।

Post a Comment