হাতির হানায় নিহতদের পরিজনকে হোমগার্ড পদে নিয়োগ করল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ
দি নিউজ লায়ন ; হাতির হানায় নিহতদের পরিজনদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি এবার নিহতদের পরিজনকে চাকরী দেওয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। রাজ্যে প্রথম বাঁকুড়া জেলায় হাতির হানায় নিহত ৫৮ জনের পরিজনকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল হোমগার্ড পদে একসাথে চাকরী দিল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। নবনিযুক্ত হোমগার্ডদের আজ থেকে বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে শুরু হল প্রশিক্ষণ। বাঁকুড়া জেলায় হাতির হামলার ঘটনা নতুন নয়।
গত দু দশক ধরে প্রতি বছর নিয়ম করে বছরে এক বা একাধিক বার দলমা পাহাড় থেকে এ রাজ্যে আসা হাতির দল পশ্চিম মেদিনীপুরের সীমানা হয়ে ঢুকে পড়ে বাঁকুড়া জেলায়। এরপর জেলার বিষ্ণুপুর, জয়পুর, সোনামুখী, পাত্রসায়ের বড়জোড়া, মেজিয়া, গঙ্গাজলঘাটি সহ বিভিন্ন ব্লকের বিস্তির্ন জঙ্গলে মাসের পর মাস কাটিয়ে ফিরে যায় দলমায়। শ'য়ে শ'য়ে আসা হাতির হানায় জেলায় বিঘের পর বিঘে জমির ধান সহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
হাতির হানায় ঘটে একাধিক প্রাণ হানির ঘটনাও। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই হাতির হানার শিকার হন মধ্য ও নিম্ন বিত্ত পরিবারের মানুষেরা। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি হাতির হানায় প্রাণ হারানোয় দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবারগুলি। সম্প্রতি রাজ্য সরকার হাতির হানায় মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি মৃতের নিকট আত্মীয়ের একজনকে চাকরী দেওয়ার কথা ঘোষনা করে।
এরপরই শুরু হয় তোড়জোড়। গত আট বছরে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হাতির হানায় নিহত ৬১ জনের পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়। এরমধ্যে ৩ টি পরিবার অন্য দফতরে কাজে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। বাকি ৫৮ জন মৃতের নিকট আত্মীয়ের হাতে রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড পদে চাকরীর নিয়োগপত্র তুলে দেয় বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। এদের মধ্যে ১২ জন মহিলা।
আজ বাঁকুড়া জেলা পুলিশ লাইনে নব নিযুক্ত এই ৫৮ জনের প্রশিক্ষন শুরু হয়। অবশেষে চাকরী মেলায় নিকট আত্মীয়কে হারানোর যন্ত্রনাকে ছাপিয়ে পরিবারগুলির মুখে চওড়া হয়েছে স্বস্তির হাসি। স্পেশাল হোমগার্ড পদে নব নিযুক্ত রাহুল ভট্টাচার্য ও মৌলি পাল বলেন, পরিবারের একমাত্র উপর্জনকারী ব্যাক্তিকে হারিয়ে চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়েছিল আমাদের পরিবার।
রাজ্য সরকার আমাদের এই চাকরী দেওয়ায় এবার সেই অবস্থা কাটবে। বাঁকুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিবেক বর্মা বলেন, এই ৫৮ জনকে ৪২ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে হোমগার্ডের কাজের উপযুক্ত হিসাবে তৈরী করা হবে। তারপর এদের বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হবে।

Post a Comment