পাহাড়ে একসঙ্গে কাজ করবে বিমল-বিনয় জুটি
দি নিউজ লায়ন ; পাহাড়ে একসঙ্গে কাজ করবে বিমল-বিনয় জুটি। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই পাহাড়ের উন্নয়নকে লক্ষ করে পুরোনো মান-অভিমান কাটিয়ে এবারে এক ছাতারতলায় পাহাড়ের পাথুরে মাটিতে বিনয় বিমল ও অনিতেরা। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল ও বিনয় শিবিরের তরফে মিলেছে এমনই ইঙ্গিত।
বিমল ও বিনয় উভয় তরফের দুই শিবিরের দলীয় সূত্রের খবর বৃহস্পতিবার কলকাতায় তৃনমূল রাজ্য নেতৃত্বদের সঙ্গে হাই লেভেল বৈঠক হয় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং ও বিনয় দুই শিবিরের।সেখানেই পাহাড়ে ভেদাভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে নেত্রীর চূড়ান্ত নির্দেশ তৃণমূলের ছাতার তলায় বিমল গুরুং ও বিনয় তামাংকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জানা গিয়েছে নেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনেই একসঙ্গে আসার কথা দিয়েছে দুই পক্ষই।
পাহাড়ের উন্নয়নকেই পাখির চোখ করে এবারে বিজেপির সবক শেখাতে চায় বিনয়- বিমল দুজনেই। কারন কোনোভাবেই ১২বছরের ভুলের পুনুরাবৃত্তি ঘটাতে রাজি নয় কেউই। সেক্ষেত্রে বিজেপির জন্য কিঞ্চিৎ ফাঁক রাখতে নারাজ উভয় পক্ষ। শূন্য হাতে এবারে পাহাড় বিশ্বাসভঙ্গকারি বিজেপিকে ফিরিয়ে সবক দেবে পাহারবাসী। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল ও বিনয় দুই শিবিরেরই মূল লক্ষ যে বিজেপি দলকে তিনবার নির্বাচনে জয়ী করার পর প্রতারনার কঠিন মাশুল গুনছে গোর্খারা তার হিসেব এবারে বিধানসভা নির্বাচনে কড়ায় গণ্ডায় গেরুয়া শিবিরের কাছ থেকে বুঝে নিতে হবে।
একদিকে যেমন বিমলের কাঁধে ভর করে পরপর তিনটি নির্বাচনী বৈতরনী পার করেছে বিজেপি। আর তার পরিবর্তে মিলেছে পাহাড়বাসীর প্রতি বঞ্চনা। আবার বিনয়ের ২০১৯এর লোকসভা নির্বাচনে গড়াপেটা সংগঠনকে ভুল বুঝিয়ে বিজেপি তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করেছে। জিটিয়ের প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজের পরও মানুষের দরজায় কড়া নেড়ে মিথ্যে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুর সলতেতে পাক দিয়েই, ভুল বুঝিয়ে ভোট হরফ করেছে বিজেপি সাংসদেরা। ১২বছর বিজেপিকে সুযোগ দেওয়ার পরও পাহাড় ইস্যু নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পদ্মশিবির।
স্থায়ী সমস্যার সমাধানতো দুরস্থ ১১টি জনজাতিকে স্বীকৃতি দেওয়া মোদির প্রতিশ্রুতি আষাড়ে গল্প। তাই কেন্দ্রের হাতের মুঠো থেকে বেড়িয়ে এসেই বিমল একে একে সামনে এনেছে বিজেপির মিথ্যে বুলির কাচ্চা চিঠটা।বিমল সাফ জনসভা থেকে জানিয়ে দেয় মোদির ছবি দেখে কেউ উত্তরবঙ্গে বিজেপিকে ভোট দেয়নি, শুধু পাহাড় নয় তরাই ডুয়ার্স ক্ষেত্রতে বিজেপির লোকসভা নির্বাচনের ফল হয়েছে তার অঙ্গুলি হেলনেই।
উল্টোদিকে বিধানসভায় গোর্খা জনজাতিদের স্বীকৃতি দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। অন্যদিকে বিনয় সাফ প্রকাশ্যে জানায় ২০১৭সালে যে বিজেপির প্রতারণা বুঝতে পেরে সেখান থেকে সরে এসে তৃনমূলের ছাতার তলায় আসে সেই ভুল এতদিনে বুঝতে পেরেছে বিমলও। পাহাড়ের পানীয় জল, চিকিৎসার সমস্যা থেকে হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয় সব করেছে রাজ্যের সরকার।
পাহাড়ের উন্নয়নের একমাত্র কান্ডারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার হাত ধরেই পাহাড়ে পর্যটন ফিরেছে, আয়ের মুখ দেখেছে পাহারবাসী।রাজ্যের সহায়তায় পাহাড় উন্নয়নে কাজ করছে জিটিএ। তাই এবারে গোর্খাদের সমর্থন নিয়ে পাহাড়ে তৃণমূলের হাত শক্ত করতে একসঙ্গে ময়দানে নামবে বিমল বিনয় দুই শিবিরই। মাঝে বিনয় তামাং অনিতের সঙ্গে বিমল গুরুং-রোশন গিরির আপসী মনোমালিন্য বাধে।
একে অপরকে নিশানায় রেখে জনসভা করেও পুরোনো ক্ষোভ উগরে দেয় তারা। যাতে করে বিমল গুরুং ২০শে ডিসেম্বর পাহাড়ে উঠলে ফের পাহাড় অশান্ত হতে পারে এমন সম্ভবনার তুমুল গুঞ্জন তৈরি হয় রাজনৈতিক মহলেজুড়ে।কিন্তু পাহাড়ের বিমলের জনসভার আগেই সে সম্ভাবনায় জল ঢেলে তৃনমূল নেত্রী পাহাড়ে শান্তি বজায় রেখে বিনয়-বিমলকে একসাথে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন বলেই গোজামুমুর দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে।

Post a Comment