একান্ত আলাপচারিতায় বিজেপি নেতা কাশেম আলি (এক্সক্লুসিভ) - The News Lion

একান্ত আলাপচারিতায় বিজেপি নেতা কাশেম আলি (এক্সক্লুসিভ)


রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সহ সভাপতি তিনি। বলা যায় তিনি বাংলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম মুখ। রাজনীতির পথ ধরে তিনি এগিয়ে চলতেই বরাবর অভ্যস্ত। নিজের মতাদর্শেই অবিচল তিনি। তিনি রাজ্য বিজেপির অন্যতম নেতা কাশেম আলি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত হয়েও রাজ্য বিজেপিতে আজ অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। জ্বালাময়ী বক্তব্যে রাজ্যজুড়ে রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছেন তিনি। সেই কাশেম আলির মুখোমুখি আমরা।

 

 

বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল লোকে বলে, কই আমি তো বিজেপিতে এসে সাম্প্রদায়িকতার কিছু দেখেনি। এখানে স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার রয়েছে সকলের যেমন, তেমন অধিকার আমারও রয়েছে।  সাফ জাইয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপি নেতা কাশেম আলি। কথায় কথায় জানালেন, আমাদের রাজ্যে গত ৩৪ বছর ধরে বামেরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ফুটবলের মতো ব্যাবহার করেছে। তারপর গত প্রায় ১০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার রাজ্যের সংখ্যালঘুদের ধোকা দিয়েছে। মাথায় হিজাব পরেছেন কখনও নামাজ পরার অভিনয় করেছেন, কখনও রোজা  না রেখে মিথ্যার মঞ্চে উঠে আমাদের আপন সাজার চেষ্টা করেছেন। কিন্ত আমরা দেখতে পেলাম   আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ আর মুখোশ সম্পুর্ন আলাদা। বাস্তবে আমরা যে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় আমাদের উন্নয়ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুই করতে পারেননি।   


আমরা তো তাঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এর কাছে ইমাম ভাতা চাইনি, মোয়েজ্জেন ভাতা চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম বাসস্থান, কর্মসংস্থান, চেয়েছিলাম বাঁচার অধিকার। কিন্ত আমাদের ইমাম্ ভাতা  দেওয়ার নাম করে আমাদের সমাজটাকে কলুষিত করেছেন। এতোদিন আমি কাশেম আলি বলতাম এখন  ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু উন্নয়ন করেননি আমাদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  আমাদের খালা সাজার চেষ্টা করেছিলেন, বেগম সাজার চেষ্টা করেছেন। খালা আর বেগম সেজে আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়কে আজ বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।


আজ রাজ্যে অপরাধীর তালিকায় বেশী কারা? চোর, গুন্ডা বদমায়েশ কারা? আমার সম্প্রদায়, আমার  মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা। ১০ বছর তাদেরকে দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই অপকর্ম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার তাদেরকে দিয়ে করিয়েছে।  কোথায় আমাদের জন্য তো উন্নয়ন  করা হইনি।  


কাশেম আলি দাবি করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ পরিবর্তন আনবেনই। বাংলার জনগন আজ কুমড়োর মতো উপরে হলুদ দেখালেও ভিতরে গেরুয়া হয়ে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমান রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সম্পর্কে বলতে গিয়ে কাশেম আলি বলেন, কেন্দ্রের প্রকল্পকে চুরি করে আজ রাজ্যবাসীকে ধোকা দিচ্ছে এই সরকার। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্প এই রাজ্যে কেন চালু করতে দেওয়া হলো না সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।


পাশাপাশি আজ তৃণমূল কংগ্রেসের যে দুয়ারে দুয়ারে সরকার কর্মসূচী সেই কর্মসূচীকে কটাক্ষ করে বলেন, এতোদিন কোথায় ছিলো সরকার? নবান্নের ১৪ তলায় লিফটে আটকে ছিলো নাকি বড়ো ঝাড়বাতিতে আটকে ছিলো? তিনি সরাসরি আক্রমণের পারদ চড়িয়ে বলেন, তৃণমূল নিয়ে মোহভঙ্গ হয়ে গিয়েছে মানুষের। যারা আজ বিজেপিতে আসতে চান তাদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে বলেও সাফ জানান তিনি।


একান্ত আলাপচারিতায় কাশেম আলি বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের একটি বড়ো অংশের সংখ্যা লঘু মানুষ বিজেপির সঙ্গে থাকবেন। তিনি বলেন, আজ ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য পদ সংগ্রহ করেছেন ২০ লক্ষ্ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। বাংলাত তুষ্টীকরন বা তোষন নয়, পক্ষপাত মূলক রাজনীতিও নয়।  আমরা চাই উন্নয়ন হোক সবার। আমাদের নীতি হলো,  সব কা সাথ সব কা বিকাশ আর সব কা বিশ্বাসের উপর। আমাদের প্রথম পরিচয় হবে আমরা ভারতীয়। আমরা জাতীয়তাবাদ বাদে অন্য কিছু অনুভব করি না।


কাশেম আলি বলেন, আমি প্রথমে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ নিয়ে ঢুকেছিলাম। তারপর ধীরে ধীরে আমার কাজের নিরিখে মূল্যায়ণ হয়ে আজ এই জায়গায় পৌছেছি। বিজেপি তো আমাকে কখনও বলেনি জয় শ্রীরাম বলতে হবে, কখনও তো বলেনি কপালে গেরুয়া তিলক আঁকতে  হবে। আমি তো রাজ্য জুড়ে কাজ করে চলেছি। তাই বলতে পারি বিজেপিতে কাজের নিরিখেই মূল্যায়ণ হয়।             

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.