বাংলায় রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা কার্যের শুভ সূচনা হলো
দি নিউজ লায়ন ; বাংলার মাটিতে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা কার্যের শুভ সূচনা ঘটলো। ইন্টারন্যাশানাল রাম মন্দির ফাউন্ডেশন ট্রাষ্টের উদ্যোগে সোমবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবরাতে এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটে। মোট ছয় একর জমির উপর আগামী দিনে নির্মাণ হতে চলেছে রাম মন্দির। যা রীতিমতো বঙ্গবাসীকে চমকে দেবে বলে দাবি উইদ্যোক্রাদের। এদিন রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা কার্যের শুভ সূচনা ঘিরে জয় শ্রীরাম ধ্বনীতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
এদিন প্রদীপ জ্বালিয়ে রাম মন্দির নির্মান কাজের যে প্রক্রিয়া তার শুভ সূচনা করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বর্ষিয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায়, অনুপম হাজরা, সব্যাসাচী দত্ত, শংকর চ্যাটার্জি, পূর্ণিমা কোঠারি, রীতেশ তেওয়ারি সহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সব্যসাচী দত্ত বলেন, বাংলায় রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার কাজ একটি সময়পোযোগী পদক্ষেপ। আমি এই কর্মযজ্ঞের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। দিকে দিকে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা বলেন, ছয় একর জমির উপর যে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে আমি চাই যতো শীঘ্র সম্ভব সময় ব্যায় না করে যেন রাম মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। কারন তা না হলে আমরা যে রাজ্যে বাস করছি সেই রাজ্যের নেতারা জমি দখল করতে ওস্তাদ। এদিন তিনি বলেন, শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যা অভিযানে রাজ্য সরকার পরিচালিত পুলিশের গুলিতে আমাদের এক সদস্যকে আমরা হারিয়েছি। যার নিন্দার করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি কোনায় কোনায় রামমন্দির প্রতিষ্ঠা হোক সেই আহ্বান জানাই।
এদিন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বিজেপি নেতা তথাগত রায় বলেন, এই হাবড়ার বুকে বহু মানুষ আছেন যারা একটা সময় আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে দেশ ছেড়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আজ যে কারনে তারা দেশ ছেড়ে এসেছিলেন এখন যদি এখানে সংঘবদ্ধভাবে হিন্দুত্ববাদের পক্ষে না নামেন তাহলে ফের ঘরছাড়া হতে হবে তাদের। তিনি রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
একইসঙ্গে এদিন তিনি রাজ্য সরকারের নানা ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে শিলিগুড়িতে রাজ্য পুলিশ যেভাবে এসকর্ট করে তাকে সভাস্থলে নিয়ে গিয়েছে তার নিন্দা করে তিনি বলেন, এই গুরুং বাহিনীর হাতেই বাংলার অমিতাভ মালিক নামে এক পুলিশ অফিসার নিহত হয়েছিলেন। আজ ভোটের লোভে সেই গুরুংকে প্রশ্রয় দিচ্ছে রাজ্য পুলিশ। এর ফল ভালো হবে না। ফের অশান্ত হয়ে উঠবে পাহাড়। তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যের মানুষ বিজেপির পক্ষেই রায় দেবেন।
এদিনের অনুষ্ঠান শেষে ইন্টারন্যাশানাল
রাম মন্দির ফাউন্ডেশন ট্রাষ্টের অন্যতম উদ্যোক্তা দুর্জয় পাল বলেন, আমরা হাবড়ার
বুকে আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই এই রাম মন্দির নির্মানের কাজ শুরু করতে চলেছি।
সাম্প্রদায়িকতার উর্ধে উঠে হিন্দুত্ববাদকে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই আমাদের
এই উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিজেপি নেতা রথীন সেন সহ স্থানীয় বহু বিজেপি
নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন।


Post a Comment