কৃষি বিভাগের ছাত্র হয়ে বিমান উড়িয়ে চাঞ্চলের সৃষ্টি
বাংলাদেশ প্রতিনিধি ; বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান সালাউদ্দীন। গ্রামের কলেজ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে কৃষি বিভাগে ভর্তি হন। কৃষি বিভাগের ছাত্র হলেও বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ ছিল তার বেশি। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান সালাউদ্দীন বিমান আবিষ্কার করে আকাশে উড়িয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে চাঞ্চলের সৃষ্টি করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগে অধ্যায়ন করলেও দৃষ্টিটা ছিলো বিজ্ঞানের দিকে। কয়েকজন বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের নিয়ে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠাতা করেন বশেমুরবিপ্রবি বিজ্ঞান ক্লাব। শুরু করেন ড্রোন বানানোর কাজ। গবেষণার শুরুর দিকে একটি ড্রোন তৈরি করেন যার ওজন ছিল পাঁচ কেজি ও লম্বায় ৫ ফুট এটি সর্বোচ্চ ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১ হাজার ফুট উচ্চতায় পঁয়ত্রিশ মিনিট ধরে উঠতে সক্ষম হয়।
পরে তিনি বাঁশ, কাঠ, কর্কশিট, ফোমশিট ব্যবহার করে ছোট আকারের ড্রোন বানানোর চেষ্টা করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে সফল ভাবে একটি ড্রোন বানাতে সক্ষম হন তিনি। যার ওজন ১ কেজি।
পরীক্ষামূলক এই ড্রোনটি পাঁচ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণ রেখার ভিতরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ফুট উচ্চতায় এবং ১০০ কিলোমিটার গতিতে ২০ মিনিট উড্ডয়ন করতে পারে। আর বিমান উদয়ন দেখতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে এবং ঠাকুরগাঁও জিলা মাঠে (বড় মাঠ) ভিড় জমাতে শুরু করে স্থানীয়রা।
ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজস্ব খরচে বিমানটি তৈরি করা হয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণ সীমারেখার ভিতরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ফুট উচ্চতায় ২০ মিনিট উড়তে পারে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো অনেক দূরে এগিয়ে যেতে পারবেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের সালাউদ্দীন বিমান আবিষ্কার করেছেন, প্রদর্শন দেখে আমরা অভিভূত-বিস্মিত হয়েছি। তার ইনোভেশন এবং আবিষ্কার আমাদের গর্বের বিষয়। প্রথমে বিশ্বাসই হয়নি যে, বিমানটি আকাশে উড়বে।
দেখার পরে মনে হয়েছে তার মধ্যে যে মেধা আছে। এই মেধাকে বিকশিত করার জন্য সরকারকে সাহায্য করা উচিত। ঠাকুরগাঁওয়ে এই প্রথম নিজেদের তৈরী প্লেন উড়তে দেখলাম, ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলে প্রযুক্তির মাধ্যমে বিমান আবিষ্কার করতে পারবে ধারণাই ছিলো না।
সালাউদ্দীন বলেন, কৃষি বিভাগের ছাত্র হয়ে বিজ্ঞানের দিকে আগ্রহ দেখে বন্ধুরা আমাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতো। আমার স্বপ্ন এখন বড় হয়ে বিমানের পাইলট হওয়া। কিন্তু পারবো কি না জানি না। ২০১৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে দূরপাল্লার চালক বিহীন বিমান তৈরির কাজ শুরু করি। দীর্ঘ ৪ বছর প্রচেষ্টার পর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিমান উড়াতে সফল হই।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, তার মেধার মাধ্যমে একটা উড়োজাহাজ তৈরি করেছে। পরীক্ষামূলক ভাবে সে সফল হয়েছে। তার এই আবিষ্কার দেখে আশ্চর্য হয়েছি, কোন কারিগরি শিক্ষা ছাড়াই এই বিশাল আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে। তাকে সহযোগিতা করতে পারলে বিজ্ঞানের জগতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।


Post a Comment