লটারি কেটে কোটিপতি ভ্যান চালক, অপহরণের আশঙ্কায় রাত জেগে গোটা গ্রাম
দি নিউজ লায়ন ; গঙ্গা ভাঙ্গনে সর্বস্ব খুইয়ে আশ্রয় হয়েছিল রাস্তার ধারে সরকারি খাস জমিতে। কিভাবে সংসার চলবে মাথা গোঁজার ঠাঁই কোথায় হবে এইসব নিয়ে চিন্তার অন্ত ছিল না মানিকচক থানা নুরপুর গ্রামের দিনমজুর রমজান আলির (৫০)। কোনোরকমে অন্যের চার চাকার ম্যাজিক ভ্যান মালদা মানিকচক রাজ্য সড়কে চালিয়ে পরিবারের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করে আসছিলেন। হঠাৎই দিন বদল।
লটারিতে ফিরল ভাগ্য। আচমকা কোটিপতি হয়ে রীতিমতো ভিআইপি ভ্যানচালক রমজান। অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের চিন্তা এখন বহু যোজন দূরে কিন্তু তাতেও শান্তি নেই মাথায় চেপে বসেছে এখন অন্য ভয়। রমজান নিজে এবং তার পরিবারের আশঙ্কা অপহরণ করা হতে পারে তাকে। রমজান আলির বাড়িতে রাতভর পাহাড়া দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা। এমনকি নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার জেরে মালদার মানিকচকের নুরপুর এলাকা এখন সরগরম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রমজান আলি ম্যাজিক ভ্যানের চালক। তিনি পরিবার নিয়ে নুরপুর গ্রামের রাস্তার ধারে সরকারি খাস জমিতে এক চিলতে চাটাই, টালির ঘরে বসবাস করেন। তাঁর পরিবারে স্ত্রী , চার ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। রমজান আলী বলেন, ' বৃহস্পতিবার দুপুরে গাড়ি ভাড়ার দেড়শ টাকা বকশিস পেয়েছিলাম। সেখান থেকে একটি লটারি টিকিট কাটি। বিকেলে সেই লটারি খেলা ছিল।
তাতে আমার ভাগ্য বদলে দেবে ভাবতেই পারি নি। নুরপুর স্ট্যান্ডে টিকিট কেটে ছিলাম। বিকেলে ছিল সেই টিকিটের খেলা। পরে ওই দোকানদারই শোরগোল শুরু করে দেয় যে, আমি এক কোটি টাকার প্রথম পুরস্কার পেয়েছি।' অভাবের জন্য নিজে বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি সবকিছু ভালোয় ভালোয় মিটে গেলে লটারির অর্থমূল্য দিয়ে এলাকায় ভালো স্কুল তৈরি করতে চান দিনমজুর রমজান।
মানিকচক থানার ওসি কুনাল কান্তি দাস বলেন, নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলি এক কোটি টাকার পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথমে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। ওই ব্যক্তির লিখিত আবেদন পাওয়ার পরই তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Post a Comment