গোপীবল্লভপুরে তৃণমূলের সভাতে শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ
দি নিউজ লায়ন ; রবিবার বিকালে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর এক ব্লকের চার নম্বর সারিয়া অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে ওই অঞ্চলের নড়ি শোল থেকে সারিয়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটার পদযাত্রা ও সারিয়াতে এক সভার আয়োজন করে করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষক বিরোধী কৃষি বিলের বিরুদ্ধে পদযাত্রা ও সভায় নেতৃত্ব দেন তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলার পর্যবেক্ষক দেবাশীষ চৌধুরী ,ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিধায়ক দুলাল মর্ম, সাধারণ সম্পাদক সত্যরঞ্জন বারিক, গোপীবল্লভপুর এক তৃনমূলের সভাপতি হেমন্ত ঘোষ সহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি বিলের বিরুদ্ধে পদযাত্রায় প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ শামিল হয়েছিলেন। পদযাত্রার শেষে সারিয়াতে সভায় বক্তব্য রাখেন দলীয় নেতারা। তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলার পর্যবেক্ষক দেবাশীষ চৌধুরী তার ভাষণে বলেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কৃষক বিরোধী সরকার ।তাইকৃষক বিরোধী কৃষি বিল পাস করিয়েছে। ওই কৃষি বিলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন কৃষক বিরোধী এই সরকার ।তাই সারা দেশজুড়ে কেন্দ্র সরকারের কৃষি বিলের বিরুদ্ধে কৃষকেরা আন্দোলন শুরু করেছে।
দিল্লি সীমান্তে হাজার হাজার কৃষক আন্দোলনে শামিল হয়েছে অথচ কেন্দ্র সরকার কৃষকদের দাবি না মেনে কৃষকদের সাথে প্রতারণা করছে। তাই এই কৃষি বিলের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে এক হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি তার ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী কে বিশ্বাসঘাতক বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
তিনি বলেন যাকে দল সাংসদ করেছিল বিধায়ক করেছিল তিনটা দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিল অথচ সেই দল ছেড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ শুরু করেছে। আসলে সারদা নারোদা থেকে বাঁচতে বিজেপি নেতাদের পায়ে ধরে তিনি বিজেপি দলে যোগ দিয়েছেন।তাই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজেকে তুলে ধরার জন্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছে। বাংলার জনগণ এই বিশ্বাসঘাতককে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে উপযুক্ত জবাব দেবে ।তিনি বলেন কে তোলাবাজ তা বাংলার মানুষই আগামী দিনে প্রমাণ করবেন।
তাই তিনি বলেন এই বিশ্বাসঘাতক শুভেন্দু অধিকারী কে জঙ্গলমহলের মানুষ আগামীদিনে ক্ষমা করবে না ।ওই সভায় তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলার সভাপতি বিধায়ক দুলাল মুর্মু বলেন জঙ্গল মহলের মানুষ দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে রয়েছেন। দল এখন বট বৃক্ষে পরিণত হয়েছে তাই কিছু মানুষ দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। তাতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না ।এরূপ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে হয়ে থাকে। যারা একদল থেকে মুনাফা লুটে আবার অন্য দলে গিয়ে মুনাফা লুটার চেষ্টা করে। তাই বিশ্বাসঘাতকদের তিনি উপযুক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সত্যরঞ্জন বারিক তার ভাষণে বলেন জঙ্গলমহলের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে রয়েছে,আগামী দিনেও থাকবে। বিশ্বাসঘাতক শুভেন্দু অধিকারীর সাথে নেই ।তাই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের মানুষ প্রমাণ করবেন। তিনি বলেন ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি বিধানসভা আসন রয়েছে।
২০১৬ সালে চারটি বিধানসভা আসনে তৃণমূল জয়লাভ করেছিল। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে দলের ফল কিছুটা খারাপ হয়েছিল। কিন্তু বিজেপির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি মানুষ ধরে ফেলেছে। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করবে এবং বিশ্বাসঘাতক এবং বাংলার আধুনিক মীরজাফর শুভেন্দু অধিকারী কে যোগ্য জবাব দেবে।
সেই সঙ্গে মিথ্যাবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপি কে জঙ্গলমহলের মানুষ সুবর্ণরেখা নদী তে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিকভাবে বিসর্জন দেবে। তিনি সকলকে বলেন আপনারা মমতার সাথে থাকুন মমতা আপনাদের পাশে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপি কে জঙ্গলমহল থেকে তিনি উৎখাত করার জন্য সকলের কাছে আহ্বান জানান।

Post a Comment