পুরাতন মালদার বেহুলা নদীর সংস্কারের কাজ শুরু হলো - The News Lion

পুরাতন মালদার বেহুলা নদীর সংস্কারের কাজ শুরু হলো


দি নিউজ লায়ন ;  প্রায় ৩৫ বছর পর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে সংস্কারের কাজ শুরু হলো পুরাতন মালদার বেহুলা নদীর।  এই নদী সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র অনুমতি দিয়েছেন। পুরাতন মালদা মঙ্গলবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমেই বেহুলা নদী সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে।  আর এদিন নদী সংস্কারের কাজ তদারকি করতে নলডুবি এলাকায় যান পুরাতন মালদার বিডিও ইরফান হাবিব, পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৃণালিনী মন্ডল মাইতি, মঙ্গলবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুরাইয়া বিবি সহ অন্যান্যরা। ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে এই নদী সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। যাতে করে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও কর্মসংস্থান পেয়েছেন, এই দাবি সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।


পুরাতন মালদার বিডিও ইরফান হাবিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বেহুলা নদীর সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছিল। এই ব্লকের দায়িত্ব পাওয়ার পর এই বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়। এরপরই প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তার পরই মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এই কাজ শুরু হয়েছে। 


স্থানীয় প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, মহানন্দা নদীর একটি শাখা নদী হিসাবেই পরিচিত রয়েছে বেহুলা নদীটি। বাম সরকারের  আমল থেকেই এই নদীর সংস্কার নিয়ে মালদার বিভিন্ন মহলে দাবি উঠে আসছিল। বর্তমানে পুরাতন মালদা ব্লকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশজুড়েই প্রবাহিত হয়েছে বেহুলা নদীটি। যার সিংহভাগ কচুরিপানা, জঞ্জাল , আবর্জনায় ভরে রয়েছে। 


রাজ্য সরকার মালদার এই বেহুলা নদী সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করেছে ৮৮ লক্ষ টাকা মঙ্গলবার থেকেই এই নদী সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। পুরাতন মালদার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৃনালিনী মন্ডল মাইতি বলেন, বাম সরকারের আমল থেকেই এই নদী নিয়ে কোনো ভাবনা চিন্তা করা হয় নি। তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী  মালদার এই বেহুলা নদী সংস্কারের ক্ষেত্রে টাকা বরাদ্দ করেছেন। প্রায় ৩৫ বছর পর এখন এই নদীর সংস্কার শুরু হয়েছে। 


১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে নদী সংস্কার করা হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় মানুষ কাজ পেয়েছেন এবং নদী সংস্কারের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত হবে বেহুলা। মঙ্গলবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুরাইয়া বিবি বলেন , বেহুলা নদী নিয়ে অনেক কথা প্রচলিত রয়েছে। কেউ বলে কলার ভেলায় করে লক্ষিন্দরের দেহ নিয়ে এই নদীতে ভেসে গিয়েছিলেন বেহুলা। যার পর থেকেই এই নদীর নাম হয় বেহুলা নদী। 


কিন্তু এই নদীর জল ব্যবহার করেন এই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা। কৃষি কাজের ক্ষেত্রেও এই নদীর জল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বেহুলা নদী সংস্কারের অভাবে প্রায় বদ্ধ জলাশয় পরিণত হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.