শুভেন্দু অধিকারীকে ধিক্কার জানিয়ে দাঁতনে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে মহা মিছিল - The News Lion

শুভেন্দু অধিকারীকে ধিক্কার জানিয়ে দাঁতনে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে মহা মিছিল




দি নিউজ লায়ন ; শনিবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল দল ছেড়ে মেদিনীপুর কলেজ মাঠে বিজেপির সর্বভারতীয় প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর হাত থেকে বিজেপির পতাকা নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। তাই শুভেন্দু অধিকারী কে ধিক্কার জানিয়ে রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন এক ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে মহা মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।


রবিবার ওই মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় প্রায় ২০ হাজারের ও বেশি মানুষ সামিল হয়েছিলেন। ওই মিছিল থেকে শুভেন্দু অধিকারী কে গদ্দার, বেইমান ও মীরজাফর বলে কটাক্ষ করে স্লোগান দেওয়া হয়। ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেন তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির সভাপতি অজিত মাইতি ,তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি নির্মল ঘোষ, দাঁতন এর বিধায়ক বিক্রম প্রধান, দাঁতন এক ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রতুল দাস, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নেতা মণিশঙ্কর মিশ্র সহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। 


মহামিছিলের যেভাবে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ শামিল হয়েছেন তা দেখে খুশি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব।রবিবার মিছিল শুরু হয় দাঁতনের ঘোলায় মোড় থেকে এবং শেষ হয় সরাই বাজার এলাকায়। মিছিল শেষে সরাই বাজার এলাকায় প্রতিবাদ সভায় তৃণমূলের নেতারা বক্তব্য রাখেন। ওই প্রতিবাদ সভায় অজিত মাইতি তার ভাষণে বলেন তৃণমূল কংগ্রেস দল একটি বৃহত্তম পরিবার ।তাই দুই এক জন চলে গেলেও  দলের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলকে তোলাবাজ বলেছেন তার  তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেন। 


তিনি বলেন সাড়ে চার বছর মন্ত্রী থাকাকালীন উনার তোলাবাজ মনে পড়েনি। আসলে উনি সারদা ,নারোদা থেকে বাঁচতে বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং বহু টাকার বিনিময়ে বিজেপির কাছে বিক্রি হয়েছে। তাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে কুৎসা অপপ্রচার করছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বেইমান শুভেন্দু অধিকারী কে বাংলার মানুষ উপযুক্ত জবাব দেবেন। তৃণমূলের জেলা  শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি তথা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন বাংলায় বেইমান, মীরজাফরদের জায়গা নেই। যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাথে বেইমানি করেছে তাদের বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না। 


মেদিনীপুরের মাটি বিপ্লবীদের মাটি। এই মাটি বেইমান দের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। তিনি আরো বলেন যে যারা গান্ধিকে খুন করেছে তাদের সঙ্গে উনি হাত মিলিয়েছেন। যারা ক্ষুদিরাম যখন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশকে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিল তখন তাদেরকে যারা ব্রিটিশ পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিয়েছিল তারা হলেন বিজেপির উত্তরসূরি। তাই ওদের মুখে ক্ষুদিরামের কথা মানায় না। ক্ষুদিরামকে মালা দেওয়ার অধিকার  ওদের নেই। 


ক্ষুদিরাম বসু মেদিনীপুরের নয় শুধু বাংলার নয় সারা ভারতবাসীর কাছে গর্ব। তাই ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে বিজেপি যে জঘন্য রাজনীতি শুরু করেছে তার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র ধিক্কার জানান। দাঁতনের বিধায়ক বিক্রম প্রধান বলেন মানুষ তৃণমূলের পাশে আছে মমতার পাশে আছে।


 মমতার উন্নয়নে সামিল হয়েছেন। সর্বস্তরের মানুষ কেন্দ্রীয় সরকার যে কালা কৃষি আইন পাস করেছে সেই কালা কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে তৃণমূলের আন্দোলনে সামিল হয়েছেন।  তিনি আরো বলেন যে কৃষকদের পক্ষে তৃণমূল। আর কৃষক বিরোধী হল বিজেপি।


কৃষক বিরোধী বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের সাথে প্রতারণা করেছে। শুধু তৃণমূল কর্মী দের সাথে নয় বাংলার মানুষের সাথে তিনি প্রতারণা করেছেন ।তাই প্রতারক শুভেন্দু অধিকারী কে  উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য বাংলার মানুষ মুখিয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন আপনারা মমতার পাশে থাকুন মমতার উন্নয়নের হাতকে শক্ত করুন। মমতা আপনাদের পাশে রয়েছে। 


তাই মমতা আপনাদের দুয়ারে উন্নয়নের ডালি পৌঁছে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন ২০২১  সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী অমিত শাহ রা বাংলার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বাংলার মানুষ ওদের আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেবে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.