শীতের শুরুতেই গৃহিণীরা প্রস্তুত ডালের বড়ি দিতে
দি নিউজ লায়ন ; সদ্য মাত্র উৎপাদন হয়েছে, শীতের শস্য কলাই। এই কলায় কে ঘিরেই, নানান পিঠে, রসবড়া রকমারি খাবার আয়োজন হয় এই শীতকালে। তবে সারা বছরের ডালের বড়ির সঞ্চয় করতে এটা উপযুক্ত মোক্ষম সময়। বাড়ির গৃহিণী মা ঠাকুমারা অন্ধকার থাকতে ভোররাত্রিতে উঠে কলাই ভিজিয়ে খোসা ছাড়ানো, চাল কুমড়ো কুরিয়ে, শীতের মিষ্টি রোদে পিঠ দিয়ে বড়ি দেওয়ার দৃশ্য এখন খুব কমই দেখা যায়!
যেটুকু বা দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মেশিনে খোসা ছাড়ানো, মেশিনেই ডাল ফাটানো। কিন্তু ঝুড়িতে ঘষে, কলাইয়ের খোসা ছাড়ানো, বাড়িতে শিলনোড়ায় বেটে, তার নিজের হাতে ফাটিয়ে বড়ি দেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে।
নদীয়ার শান্তিপুর ঘোড়ালিয়া অঞ্চলের নরসিংহ নগর এলাকার শিখা অধিকারী বিয়ের আগেই মা ঠাকুমা দের কাছ থেকে রপ্ত করেছিলেন বড়ি দেওয়ার পদ্ধতি। শুধুমাত্র খাওয়া এবং আত্মীয় স্বজনকে বিতরণ করার জন্যই মূলত বানাতেন। দীর্ঘ লকডাউনে স্বামীর ছোট কাপড়ের ব্যবসা টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেকটাই! তাই স্বামীর ব্যবসার অর্থনৈতিক সহযোগিতা করার জন্য এবছর একটু বেশি করেই বিক্রির জন্য তৈরী করবেন বলে মনস্থির করেছেন তিনি।
কেজি প্রতি আড়াইশো টাকা, সাধারণ দোকানের বিক্রিত ডালের বড়ি থেকে একটু বাজার দর বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান বরি ভারী করার জন্য চালের গুঁড়ো নয়, বরং হালকা করার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করে ফাটানোর কাজে মনোযোগ দিই এবং চাল কুমড়ো ব্যবহার করি। তাই এই ডালের বড়ির স্বাদেই খুঁজে নেয় আমাকে! বেশিরভাগ পাড়া ঘরের মধ্যে বিক্রি, ভালো লাগলে অনেকে সারা বছরের জন্য দু তিন কেজি বড়িও নিয়ে রাখেন অনেকে।

Post a Comment