আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল নেতা গুলিবিদ্ধ
দি নিউজ লায়ন ; আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল নেতা মনোরঞ্জন দে কে লক্ষ্য করে গুলি। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শিলিগুড়ি থেকে ফেরার সময় জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। মালবাজারে জাতীয় সড়কের ধারে গাড়ি থেকে নামলে দুষ্কৃতিরা তাকে লক্ষ্য তিন রাউন্ড গুলি ছোরে বলে অভিযোগ। দুই রাউন্ড গুলি লক্ষ্য ভ্রষ্ট হলেও এক রাউন্ড গুলি মনোরঞ্জন বাবুর বা পায়ে হাটুর কাছে লাগে বলে অভিযোগ।
সাথে সাথে তার নিরাপত্তা রক্ষী গাড়ি ঘুরিয়ে তাকে শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই তার চিকিতসা চলছে। পায়ে একাধিক অপারেশন হয়েছে। পা থেকে গুলি বের করেছেন চিকিতসকরা। শুক্রবার সকালে মনোরঞ্জন বাবুর গুলি বিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাস্তায় নামে তৃণমূল কংগ্রেস। আলিপুরদুয়ারে বিজেপির বিরুদ্ধে এই গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে মিছিল বের করেন ছাত্র ও যুবরা। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা যুব, ছাত্র সংগঠনের নেতারা। আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের সোনাপুরে দুপুরে পথ অবরোধ করে তৃণমূল।
রাতেই খবর পেয়ে দল বল নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গেছেন আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূলের সাধারন সম্পাদক সঞ্জিত ধর। সকালে শিলিগুড়ি বেসরকারি হাসপাতালে যান পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব, আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য নেতা কর্মীরা। সকালে মনোরঞ্জন দে'র প্রচুর অনুগামি তাকে দেখতে শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে যান। পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দে বলেন, " এই কাজ বিজেপির। বাইরে থেকে সুপারি কিলার আনা হচ্ছে। সর্বত্র অশান্তির চেষ্টা করছে বিজেপি। গোটা উত্তরবংগে এই হামলার নিন্দা করে আমরা প্রতিবাদ জানাব। তিন রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল।
পায়ে এক রাউন্ড গুলি লেগেছে। তাকে মেরে ফেলার জন্যই গুলি চালিয়েছিল দুষ্কৃতিরা।" একই সুরে কথা বলেছে আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মৃদুল গোস্বামি বলেন, " বিজেপি চক্রান্ত করে তাকে মেরে ফেলার জন্য এই গুলি চালিয়েছে। আমরা বিজেপিকে ধিক্কার জানাই। সর্বত্র এই ঘটনার প্রতিবাদ হবে।" গুলিবিদ্ধ মনোরঞ্জন দে আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি।
তিনি আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি পদেও রয়েছেন। জেলার এহেন গুরুত্বপূর্ন নেতার গুলি বিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় শোরগোল শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ফোন করে মনোরঞ্জন দে'র খবর নিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, " রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।" এদিকে এই ঘটনার পরে জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা ভাবছে জেলা পুলিশ। এই ভাবনার কথা স্বিকার করেছেন আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি। তিনি বলেন, " আলিপুরদুয়ার জেলায় বেশ কিছু তৃণমূল নেতা নিরাপত্তা পান। সেই নিরাপত্তা আরো বাড়িয়ে আটোসাটো করা যায় কিনা তা আমরা ভাবছি।"

Post a Comment