মা, স্ত্রী এবং মেয়েকে কুপিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী
দি নিউজ লায়ন ; পারিবারিক অশান্তির জেরে মদ্যপ অবস্থায় নিজের স্ত্রী,মা,মেজ মেয়েকে ধারালো দা দিয়ে কোপ মেরে আত্মহত্যা করল এক ব্যক্তি। ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হল মৃতদেহ। তাঁর বাম হাতের শিরাও কাটা ছিল। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাতে বারুইপুর থানার মদারাট পঞ্চায়েতের দাসপাড়ায়। এর জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও পরিবারের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যায় বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে।
পুলিশ রবিবার সকালে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। মৃতের নাম ভোলানাথ মণ্ডল(৩৮)। আহতদের মধ্যে মেজ মেয়েকে রবিবার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর আঙুলে চোট ছিল। স্ত্রী ঊর্মিলা মণ্ডল ও মা গীতা মণ্ডলের মাথায় ও হাতে চোট আছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর,দাসপাড়ার বাসিন্দা ভোলানাথ মণ্ডল পেয়ারার ব্যবসা করত। কিন্তু লকডাউনের সময় সেই কাজ তাঁর বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সে জমি বিক্রির কাজ শুরু করছিল। তাঁর তিন মেয়ে।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন,বাড়িতে প্রতিদিনই নানা কারণে অশান্তি হত। গত শুক্রবার সন্ধের পর তাঁদের বাড়িতে খুব অশান্তি হয়। সেইসময় তার মা,স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে কোপায় সে। বাধা দিতে এসে তাঁর মেজ মেয়েও আক্রান্ত হয়। অন্য দুই মেয়ে সেইদিন ছিল না। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে। সেখান থেকে কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাসিন্দারা আরও বলেন,এই ঘটনার পর থানাতে কোন অভিযোগ জানানোও হয়নি। এরপর থেকে মানসিক অবসাদে ভুগত ভোলানাথ। ঘর থেকে তেমন বেরোচ্ছিল না। অন্য মেয়েরা এসে দেখাও করে গিয়েছিল। পরে শনিবার রাতে নিজের ঘরের আড়কাঠে গলায় দড়ি দেয়। গভীর রাতে ঘটনা জানাজানি হতে তাঁকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Post a Comment