দিদি কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
দি নিউজ লায়ন ; দিদি জীবন দেওয়ার জন্য তৈরি থাকবে কিন্তু মানুষের সাথে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। জীবনে অনেক লড়াই করেছি বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়েও লড়াই করেছি। আমার সারা শরীর কাটা ও ফাটা। যদি বিজেপি মনে করে গোটা দিল্লি কে নিয়ে বাংলায় পড়ে থাকবে আর সামনাসামনি লড়াই করবে তাহলে হোক না একটা সামনাসামনি লড়াই আপনারাই বলুন। কবে যুদ্ধ করবেন কোথায় যুদ্ধ করবেন বলুন?
রাজনৈতিক যুদ্ধ নয় দাঙ্গার যুদ্ধ নয়। যুদ্ধ করতে হলে শান্তির জন্য করুন। দরকার হলে এই কোচবিহারের মদনমোহন কে সাক্ষী রেখে এই রাশ মেলার মাঠেই হবে। আপনার একদিকে থাকবেন আমরা আরেক পাশে থাকব। আপনার সাথে গুন্ডা থাকবে আর আমার সাথে থাকবে মানুষ।বুধবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহার জেলা তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে রাস মেলার মাঠে একটি কর্মীসভায় বক্তব্য রাখেন।
সামনে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই নেত্রী।দলের কর্মীদের চাঙ্গা করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল তৃণমূল নেত্রীর এছাড়াও কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। যা দূর করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই উদ্যোগী হয়েছে তবে এদিনের সভা থেকে যেমন কোচবিহার জেলাকে নিয়ে একাধিক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন তেমনি বিজেপিকে কটাক্ষ করতে পিছপা হননি তিনি। রাস মেলার মাঠে তৃণমূল কর্মীদের ঠাসা ভিড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যের প্রথমেই বলেন, আমরা পার্লামেন্ট নির্বাচনে হেরেছি বিজেপি জিতে কোচবিহারে গুন্ডামি করছে।
নানা অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা যাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম সে এপার-ওপার করে একটা নির্বাচন পার হয়ে গেছে। কিন্তু মনে রাখবেন বারো মাসে তেরো পার্বণ। তৃণমূল কংগ্রেস করে অন্য কোন দল করে না।
বাঙালি রাজবংশী ভাগাভাগি করি না। উদ্বাস্তুদের নিয়ে ভাগাভাগি করি না।মনে রাখতে হবে সবকিছু নিয়ে জীবন। আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস এমন একটা দল মায়ে মায়ে ভেদাভেদ করতে নেই।আমি রাজবংশী ভাষা বুঝি আমি কবিতা লিখেছি।
১৯৯২ সালে আমি কোচবিহারে জনসংযোগ যাত্রা করেছি। যারা প্রথম দিন থেকে আছে তারা থাকে।কেউ জোয়ারের আসে ভাটা হয়ে চলে যায়। কাপড় জামা বদলানো যায় কিন্তু আদর্শ বদলানো যায় না বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় ক্যাম্পাস হচ্ছে।সেটার নাম দেওয়া হয়েছে পঞ্চানন ক্যাম্পাস। পঞ্চানন ঠাকুরের জন্মদিনে আমরা কোচবিহারের ছুটি ঘোষণা করেছি। রাজবংশী আবাস যোজনায় এগারোশো বাড়ি তৈরি হয়েছে। ভাষা একাডেমিতে ২৫ কোটি টাকা দিয়েছি। রাজ্য পুলিশের নারায়নী সেনা তিন হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে।
কোচবিহার সব সময় এক নাম্বারে থাকে অনেক দিয়েছি। কৃষকদের জমির খাজনা দিতে হবে না। অনেকে খাজনা দিতে পারেনি তার জন্য তাদের কোন সুদ দিতে হবে না। গত ছয় মাস ধরে বিনে পয়সায় রেশন দিয়ে যাচ্ছে আগামীতেও দেব ৫ কেজি করে চাল গম দিচ্ছে সরকার। সাস্থ সাথী থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনে পয়সায় চিকিৎসা করতে পারবেন।
কন্যাশ্রী করে দিয়েছি ক্লাস এইট থেকে একদম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। প্রায় এক কোটির মতো সবুজ সাথী সাইকেল দিয়েছি। পরার জন্য জুতা ও দিচ্ছি করোনার সময় আমাদের রাজ্যের বহু মানুষ বাইরে আটকে ছিল তাদের রাজ্যে ফিরিয়ে এনেছি ৩০০ ট্রেনের ভাড়া দিয়েছি দিল্লি সরকারের মানবিক হয়নি।
সেই সময় বিজেপি সিপিএম কংগ্রেস কোথায় ছিল সারাক্ষণ শুধু তারা কুটুস কুটুস করে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কৃষকরা মারা গেলে ২ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছে শস্য বীমা করে দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment