বেলা বাড়তেই যাত্রী সংখ্যা বাড়ল হাওড়া স্টেশনে
দি নিউজ লায়ন ; অবশেষে প্রায় সাড়ে সাত মাস পর বুধবার ১১ নভেম্বর থেকে চালু হল লোকাল ট্রেন। সকালে হাওড়া স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া লোকালে কম সংখ্যক যাত্রী চোখে পড়লেও অফিস টাইমে হাওড়ায় আসা ট্রেনগুলিতে যাত্রীদের ভীড় চোখে পড়ে। যদিও রেলের দাবি, অন্যান্য দিনের তুলনায় ভীড় ছিল কম। এদিন সকাল থেকেই স্টেশনে ছিল রেল পুলিশ, আরপিএফ।
এদিন সকালেও হাওড়া স্টেশনে দফায় দফায় জীবাণুমুক্তকরণ করা হয়। পরিস্থিতি যা আজ থেকেই ক্রমে ছন্দে ফিরছে হাওড়া স্টেশন। এদিন ভোর চারটে নাগাদ প্রায় সাড়ে সাত মাস পর হাওড়া স্টেশন থেকে প্রথম লোকাল ট্রেন যাত্রা শুরু করে। কোভিড আইন মেনেই রেলের তরফ থেকে যাত্রীদের সুরক্ষার বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মাস্ক ছাড়া কাউকেই ট্রেনে যাতায়াত করতে দেওয়া হয়নি।
থার্মাল স্ক্যানিং করা হয় যাত্রীদের সুরক্ষার কথা ভেবে। লোকাল ট্রেন চালায় খুশি সকল ট্রেন যাত্রীরা। এদিন স্টেশনে আরপিএফ, জিআরপি ছাড়াও আরপিএফের ডগ স্কোয়াড মোতায়েন ছিল। ভীড় এড়াতে রেল পুলিশের তরফ থেকে বারবার মাইকিং করা হয়। হুইসেল বাজিয়ে ভীড় নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায় আরপিএফ'কে।সকালে হাওড়া স্টেশনে ঘুরে যান ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার ইশাক খান।
আরপিএফের তরফে উপস্থিত ছিলেন রজনীশ ত্রিপাঠী সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল লোকাল ট্রেন পরিষেবা। পরে আনলক শুরু হলেও এতদিন বন্ধ ছিল লোকাল ট্রেন। ফের বুধবার ভোর থেকে চালু হয়েছে লোকাল ট্রেন পরিষেবা। সকাল থেকেই যদিও সেরকম ভিড় না থাকলেও বেলা বাড়লে যাত্রীসংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। বহুদিন পর হাওড়া স্টেশনে সেই পুরানো ছবি দেখা গেছে। লোকাল ট্রেন আসার পর দেখা যায় বহু যাত্রীর ভীড়। প্রায় হাজারেরও বেশি যাত্রী
এদিন হাওড়া স্টেশনে লোকাল ট্রেন থেকে নেমেছেন। লোকাল ট্রেন চালু হওয়ায় যাত্রীরা জানিয়েছেন তাঁরা খুব খুশি। অফিস কর্মস্থলে আসতে বাসে অনেক টাকা খরচ হচ্ছিল। পাশাপাশি সময় লেগে যাচ্ছিল।
সেখানে এদিন থেকে লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় সুবিধা হল। এতে খরচ কমবে। বাঁচানো যাবে সময়। তাই রাজ্য সরকার ও রেল প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছে রেলের যাত্রীরা। লোকাল ট্রেনের যাত্রী অপর্ণা পাল বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস পর আজকে চালু হল লোকাল ট্রেন। প্রথম প্যাসেঞ্জার হিসেবে ভাল লাগছে। ট্রেন না চলায় কর্মক্ষেত্রে যেতে অসুবিধা হচ্ছিল। এখন ভাল লাগছে। কোনরকম সমস্যা হয়নি।
কলকাতা লেকগার্ডেনের বাসিন্দা সোমা চৌধুরী ব্যান্ডেলে বাপের বাড়ি যাচ্ছেন। তিনি বলেন, লোকাল ট্রেন চালু হওয়ায় ভাল লাগছে। তবে কোভিডের একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ট্রেনে সকলেই সামাজিক দূরত্ব মেনে বসেছেন।কোনওরকম অসুবিধা হয়নি। এতদিন ট্রেন না চলায় প্রচন্ড সমস্যায় পড়েছিলাম। সাড়ে সাত মাস পর বাপের বাড়ি যাচ্ছি।
আরেক যাত্রী হায়দার আলি বলেন, লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার পর খুব ভালভাবে হাওড়া স্টেশনে এলাম। কোনরকম সমস্যা হয়নি। এতদিন বাসে যাতায়াত করছিলাম।সেখানে সোস্যাল ডিস্টেন্সিং মানা হত না। যাতায়াতে সমস্যা হত। ট্রেন চলায় সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। সকলেই সোসাল ডিস্টেন্সিং মেনে এদিন ট্রেনে উঠেছেন।
অন্যদিকে, এদিন সকালে হাওড়া স্টেশনে ট্রেনে উঠতে যাচ্ছিলেন পেশায় এক মুচি। তাঁকে দেখতে পেয়েই কর্মরত আরপিএফ কর্মীরা হাতেনাতে ধরেন। আটক করা হয়। উল্লেখ্য, এদিন থেকে লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু হলেও তাতে হকারদের ওঠা এখন নিষেধ রয়েছে।

Post a Comment