বাড়ি থেকে উদ্ধার একই পরিবারের ৫ জনের মৃতদেহ
দি নিউজ লায়ন ; একই পরিবারের ৫ সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধারে রবিবার সকালে চাঞ্চল্য ছড়ালো দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন থানার চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জামালপুর এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় তপন থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পরে পুলিশ মৃতদেহ গুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃতদের নাম অনু বর্মণ (৩৩), তার মা উলুবালা বর্মণ(৬০), স্ত্রী মল্লিকা বর্মণ(২৬) এবং দুই মেয়ে বিউটি বর্মণ(১০), স্নিগ্ধা বর্মণ(৬)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান অনু বর্মণ পরিবারের সকলকে খুন করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা হয়েছে। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে খুনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,
অনু বর্মণ বয়স্ক মা, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। রবিবার সকালে ধান কাটার শ্রমিকরা এসে ডাকাডাকি করলে কেউ সাড়া না দেওয়ায় এক শ্রমিক দেওয়াল টপকে ভেতরে ঢ়োকে। সে দেখে ঝুলন্ত অবস্থায় অনু বর্মণ এবং অন্যান্যরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে তপন থানার পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান অনু বর্মণ পরিবারের সদস্যদের খুন করার পর নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়।
সকলকে কুপিয়ে খুন করার পর নিজেও গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, অনু বর্মণ দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার আক্রান্ত। নিজের চিকিৎসার জন্য জমি জায়গা বেশির ভাগই বিক্রি করতে হয়েছে। এই নিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিল সে। এর জন্য হয়তো পরিবারের সকলকে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হয়েছে বলে অনুমান স্থানীয়দের। যদিও মৃতের আত্মীয়দের দাবি কোনোভাবেই অনু পরিবারের অন্যান্যদের খুন করতে পারে না। অন্য কেউ হয়তো সম্পত্তির লোভে খুন করেছে। এমনকি অনু বর্মণের হাতে বেশ কিছু নাম কলম দিয়ে লেখা ছিল বলেও জানা গিয়েছে।
ঘটনাস্থলে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহম্মদ নাসিম সহ বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ মৃতদেহ গুলি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে তপন থানার পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এবিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত জানান, আজ সকালে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান তারা। ওই বাড়ি থেকে মোট পাঁচ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
যার মধ্যে একজন পুরুষ ও বাকি চারজন মহিলা। কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে এবং একজনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পৌঁছেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলাশাসক ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের জন্য জানিয়েছেন। প্রাথমিক অনুমান অনু বর্মণ পরিবারের সকলকে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

Post a Comment