শিলিগুড়িতে কংগ্রেসের ওপর ভর করেই নির্বাচনী বৈতরণী পারা করতে চাইছে অশোক
দি নিউজ লায়ন ; শিলিগুড়িতে কংগ্রেসের ওপর ভর করেই নির্বাচনী বৈতরণী পারা করতে চাইছে অশোক। উৎসবের পর ২৬শে নভেম্বরের বনধ নিয়ে করা রাজনীতির মাঝে আদতে সেই চিত্রও ফুটে উঠলো শিলিগুড়িতে। মুখে যাই বলুন না কেন বনধের নামে জোট সঙ্গীতা পাকপাকি করতেই মরিয়া অশোক ভট্টাচার্য। শিলিগুড়িতে নিজ ভোটব্যাংক ধরতে দলীয় নীতির বিপক্ষেও পাড়ি দিতে পারেন অশোক ভট্টাচার্য্য।
নকশালবাড়ি কংগ্রেস বিধায়ক শঙ্কর মালাকারের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেই শিলিগুড়িত বিধানসভা নির্বাচনে অশোক ভট্টাচার্যের ময়দানে নামার প্রসঙ্গ এখন ঘোষনার অপেক্ষা মাত্র।কংগ্রেস দার্জিলিং জেলা সভাপতি শঙ্কর মালাকারের সঙ্গ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠছে বাম পোড় খাওয়া নেতা অশোক ভট্টাচায্যের কাছে। যদিও এই সময়টা রাজ্য রাজনীতির ময়দানে বাম ও কংগ্রেস জোটের নৌকো অনিশ্চিত।
তবে শিলিগুড়িতে নিজ মসনদ ধরে রাখতে মরিয়া অশোক- কংগ্রেস সঙ্গী শঙ্কর মালাকারের হাত ধরেই নিজের অবতরণ করতে চান। সোমবারের মিছিল থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। বনধের সমর্থনে মিছিলের উদ্দেশ্যই ছিল অশোক শঙ্করের জোটসঙ্গীতা। অশোক ছিলেন সর্বসময় শংকর মালাকারের সান্নিধ্যে।
মিছিলের প্রথমের সারিতে কোনো বাম নেতাদের সঙ্গে নয় অশোক বাবুকে আগাগোড়া দেখা যায় এদিন কংগ্রেস বিধায়ক শঙ্কর মালাকারের সঙ্গেই। অশোক বাবু ও শংকর মালাকারের একসঙ্গে নিজেদের জনগণ ও সংবাদমাধ্যমের সামনে যেভাবে পরিবেশন করেন তাতে স্পষ্ট তাদের সংঘবদ্ধতা।নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা থেকে তোষামোদ, মিছিলের বিজেপি বিরোধিতার মূল বিষয় উহ্য রাখা ছাড়া কোনটাই বাদ গেলোনা এদিন।
কারন শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় বামেদের ভোট ব্যাংক গিয়ে ঠেকেছে ৪-৫%এ। পূর্বের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এক একটি বুথে বামেদের ভোট ছিল শূন্য। সেখানে বামেদের বুথ প্রতিনিধিও ভোট দিয়েছেন অন্যত্র। একই অবস্থা কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও। তাদের পরিসংখ্যান ঠেকেছে আরও তলানিতে। তাই দুয়ে মিলে ভর করেই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নামতে চলেছেন তারা।
যদিও কংগ্রেসের একটা বড় অংশ একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না অশোক শঙ্করের এই জোট সঙ্গীতাকে। তাদের মত দীর্ঘদিন ধরেই অঘোষিতভাবে চলে আসছে অশোক শঙ্কর জোট চক্র। শিলিগুড়ি বিধানসভার ক্ষেত্রে যেমন অশোকের ভরসা শঙ্কর মালাকার তেমনি শিলিগুড়ি মহাকুমার বিধায়ক আসনে কংগ্রেস বিধায়ক শংকর মালাকারের বৈতরণী পারাপারের দায়িত্ব পড়ে অশোক বাবুর ওপর।
তাই অঘোষিত জোটের কোন মিটিং মিছিল দেখা যায় না দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক সহ বড় অংশের কংগ্রেস নেতৃত্বকে। অন্যদিকে খানিক অসন্তুষ্ট বামেরাও। শিলিগুড়িতে বাম নেতৃত্বরা দলীয় অশোক সেনাপ্রধানের সরাসরি বিরুদ্ধাচারনে না গিয়ে নিজেদের সরিয়ে রাখছেন দলীয় কার্যকলাপ থেকে। তাতে অবশ্য কিছুই যায় আসে না সেনাপ্রধান অশোকের।
পাল্টা বেশ কিছুদিন ধরেই অশোক ভট্টাচার্য পুরোনিগমের সরকারি অনুষ্ঠান থেকে ত্রাণ বিলি কংগ্রেস বিধায়ক শংকর মালাকারকে ছাড়া কোনো কর্মসূচির পথেই এগোচ্ছেন না। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে শংকর মালাকারকে আমন্ত্রণের বিষয়ে বহুবার বিতর্কও ওঠে তবে সে সবের ঊর্ধ্বে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থকে রাখছেন অশোক বাবু। তাই কোনকিছুতেই গায়ে মাখতে রাজি নন তিনি।

Post a Comment