বাংলায় সরকারি হাসপাতালে প্রথম -সফল “স্পাইন অপারেশন” - The News Lion

বাংলায় সরকারি হাসপাতালে প্রথম -সফল “স্পাইন অপারেশন”




দি নিউজ লায়ন ;   বাংলায় এই প্রথম কোনও জেলা হাসপাতালে এই স্পাইন অপারেশন করা হল। ভেঙে যাওয়া শিরদাঁড়ার সফল অস্ত্রোপচার বা স্পাইন অপারেশন করা হল আসানসোল জেলা হাসপাতালে। শিরদাঁড়ায় চারটি স্ক্রু দিয়ে একটি রড বসানো হয়েছে। এই ধরনের অপারেশন জেলা হাসপাতালে করা হয় না। অনেক ঝুঁকি থাকে। তাও রোগীর শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে সফল অস্ত্রপ্রচার করলেন জেলা হাসপাতালের চিকিতসকরা। 


সাধারণ ধর্মঘটের দিন বৃহস্পতিবার চৈতালি বাউরি নামে এক মহিলার এই অস্ত্রোপচার করেন আসানসোল জেলা হাসপাতালে অর্থোপেডিক সার্জেন বা অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাক্তার সমীরণ দে। তাঁকে সাহায্য করেন জেলা হাসপাতালের দুই এ্যানাসথেস্টিট ডাক্তার মাধব মণ্ডল ও ডাক্তার সুকন্যা রায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলা হাসপাতালে এই ধরনের অপারেশন সাধারণতঃ করা হয়না। বেসরকারি কোনও হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার করতে খরচ কমপক্ষে আড়াই লক্ষ টাকা। 


বারাবনির দোমানি এলাকার বাসিন্দা বছর ৩০ এর চৈতালি বাউরি হনুমানের তাড়ায় বাড়ির ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। তাতে তিনি গুরতর আহত হন। বাড়ির লোকেরা তাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জেন ডাক্তার সমীরণ দে তার চিকিৎসা শুরু করেন। এক্সরে সহ বিভিন্ন পরীক্ষার পরে চিকিৎসক বুঝতে পারেন, রোগীর শিরদাঁড়া বা স্পাইনে (এল২ ভাটিব্রা) বড় ধরনের চোট লেগেছে। 


হাড় ভেঙে বসে গেছে। সেই সঙ্গে নার্ভ বা শিরাতে চাপ পড়েছে। এর ফলে রোগী ডান পা একবারে অবশ হয়ে গেছে। বাঁ পায়েরও অবস্থা খারাপ। হাঁটাচলার কোন ক্ষমতা নেই। চিকিৎসক বুঝতে পারেন দ্রুত অস্ত্রোপচার করা না হলে, রোগীর সমস্যা হতে পারে। গোটা বিষয়টি চিকিৎসক হাসপাতাল সুপার ডাক্তার নিখিল চন্দ্র দাসকে বলেন। সুপার তাকে অস্ত্রপচার করার সবুজ সংকেত দেন। সেই মতো এদিন চিকিৎসক রোগীর অস্ত্রপচার করেন। 


তিনি বলেন, চিকিৎসক সমীরণ দে বলেন, সুপারের পাশাপাশি দুই এ্যানাসথেস্টেট আমাকে সাহায্য করেছেন। সময় লেগেছে ১ ঘন্টা ২০ মিনিট। বিকালেই রোগীর জ্ঞান ফিরেছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে ৮/১০ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রেখে সেলাই কেটে ছেড়ে দেওয়া হবে। এরপর রোগী ক্র্যাচ দিয়ে হাঁটা শুরু করবেন।


 ১৪ দিন পর থেকে রোগী ক্র্যাচ ছাড়া আস্তে আস্তে হাঁটতে পারবেন। স্বাভাবিক ভাবে রোগী হাঁটতে পারবেন সবচেয়ে বেশি তিন মাসের মধ্যে। সুপার ডাক্তার নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, জেলা হাসপাতালে এই ধরনের অপারেশন হওয়ায় একটা ভালো বার্তা যাবে সাধারণ মানুষের কাছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.