ডেবরার সেভ হোম বন্ধ করতে চলেছে জেলাস্বাস্থ্য দপ্তর
দি নিউজ লায়ন ; করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় করোনা চিকিৎসার জন্য রাখা দুটি সেভ হোম পুরোপুরিভাবে বন্ধ করতে চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাই চন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন তাঁতিগেড়িয়া এলাকাতে থাকা আয়ুস এর স্যাটেলাইট সেফহোম কয়েক মাস আগে ১০০ শয্যার কভিড হাসপাতালের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়।
তখন জেলায় করোনা সংক্রমণ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এক সময়ে দিনে এখানে ৬০-৭০জন করে রোগী ভর্তি থেকেছেন। সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় করোনা মোকাবিলায় গঠিত জেলা স্তরের টাস্কফোর্সের বৈঠক হয়েছে। সার্বিকভাবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হয়। তখন দেখা যায় ইদানিং তাঁতিগেড়িয়ার ওই হাসপাতলে কম সংখ্যক রোগী ভর্তি থাকছেন। সব দিক খতিয়ে দেখেই হাসপাতালটি আপাতত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক।
অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় থাকা সেভ হোমটিও ফাঁকা, এখানেও রোগী নেই। বর্তমানে সেটিও আগামী দশ দিন দেখার পর বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ড: নিমাই চন্দ্র মন্ডল।
প্রসঙ্গত জেলার করোনা সংক্রামিত দের মধ্যে ৮ থেকে ১০ শতাংশই এখন কোভিড হাসপাতাল বা সেফ হোমে ভর্তি থাকছেন। বাকি ৯০-৯২ শতাংশ থাকছেন হোম আইসোলেশনে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে বৃহস্পতিবার জেলার কোভিড হাসপাতাল বা সেফ হোমগুলিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মোট ৪৮ জন করোনা সংক্রমিত। এরমধ্যে আয়ুস কোভিড হাসপাতালে ১৮ জন, শালবনি কোভিড হাসপাতালে ২২ জন, ঘাটাল কভিড হাসপাতালে ৫ জন এবং খড়গপুর সেফ হোমে ৩ জন। মেদিনীপুর শহরের তাঁতিগেড়িয়ায় আয়ুস স্যাটেলাইট কোভিড হাসপাতলে কোন রোগীই ছিলনা। আর ডেবরার সেফহোম ছিল কার্যত ফাঁকা।
যদিও ওইদিন জেলার করোনা আক্রান্ত রোগীর তালিকায় রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৯৫। অর্থাৎ আক্রান্তের মোট ৮ শতাংশ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, আর তার মধ্যে ৯২শতাংশই ছিল ঘরবন্দি।
এদিকে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মনে প্রশ্ন আসতে শুরু করেছে যে... হাসপাতাল বন্ধ হলে করোনা চিকিৎসায় বেডের অভাব হবে না তো ?
এই মন্তব্যে অবশ্য জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন ' করোনা সংক্রমিতদের মধ্যে এখন অনেকেই হোম আইসোলেশনে থাকতে চাইছেন,এই হোম আইসোলেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধার জন্য জেলাস্বাস্থ্য দপ্তর যথেষ্ট সাহায্য করবে। তাছাড়া এই হাসপাতাল বা সেফ হোমে আক্রান্ত মানুষদের মনে একটা অজানা ভীতি কাজ করে হোম আইসোলেশন থাকলে তা অনেকটাই কেটে যাবে, তাঁরা তাড়াতাড়ি সুস্থও হয়ে উঠবেন।'
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি এখনো জেলায় ৬০০ বেডের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে, ফলে কোন সমস্যাই হবে না। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কারণে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে থাকা মোট ৬ টি করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র সেভহোম এর মধ্যে ২টি বন্ধ করতে চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর যা অনেকটাই স্বস্তির বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা।

Post a Comment