যান্ত্রিক ত্রুটিতেই সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানায় বিস্ফোরণ, জানালেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা
দি নিউজ লায়ন ; যান্ত্রিক ত্রুটিতে মালদার সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের পর এমনই জানালেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ফরেনসিক দলের পক্ষ থেকে শনিবার জানানো হয়, বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করে তারা নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন। তবে তারা ঘটনাস্থল থেকে কোনরকম বিস্ফোরক পাননি। সব দিক খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে তাদের মনে হচ্ছে যে মেশিনে প্লাস্টিক কাটা হত সেখানে কোন যান্ত্রিক ত্রুটি বা গোলযোগের ফলে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে।
তবে ঠিক কি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ হয় তা নির্দিষ্ট করে বলতে কিছুটা সময় লাগবে। বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা। এই নমুনা পরীক্ষা করে তারা নিশ্চিত করে বলতে পারবেন ঠিক কী ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বিস্ফোরণের নেপথ্যে রয়েছে। এদিকে, সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানায় ফরেনসিক দলের তদন্তের সময় মৃদু বিস্ফোরণের ঘটনায় প্লাস্টিক কারখানা চত্বর ধোঁয়ায় ভরে যায়।
তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটে নি। শনিবার দুপুর বারোটা নাগাদ কালিয়াচক থানার সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের স্কুলপাড়া এলাকায় প্লাস্টিকের কারখানার বিস্ফোরণস্থলে তদন্তে আসেন রাজ্যের দুই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ। তাদের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক সরকার , ডিএসপি শুভতোষ সরকার , কালিয়াচক থানার আইসি আশিস দাস সহ অন্যান্য পদস্থ কর্তারা।
ফরেনসিক দলের দুই বিশেষজ্ঞ মধ্যে ছিলেন ড. চিত্রাক্ষ সরকার এবং আকাশ দাস। এদিন ফরেনসিক দলের দুই বিশেষজ্ঞ তদন্ত চলাকালীন প্লাস্টিকের কারখানায় হঠাৎ করেই মৃদু বিস্ফোরণ এবং ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা চত্বর ।এমনকি ধোঁয়ায় আঁচে পিপিকিইট খুলতে বাধ্য হন একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. চিত্রাক্ষ সরকার। এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। যদিও ফরেনসিক কর্তাদের দাবি, কোন বিস্ফোরণ ঘটে নি।
কেমিক্যাল দিয়ে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করার সময় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। পাশাপাশি বিস্ফোরণস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর রাজ্য ফরেনসিক দলের বিশেষজ্ঞ ড. চিত্রাক্ষ সরকার জানিয়েছেন , বৃহস্পতিবার ওই প্লাস্টিকের কারখানা মেশিনের যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছিল। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সেগুলি ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করার পরেই প্রকৃত বিস্ফোরণের কান্ড সম্পর্কে বলা যাবে। তবে বিস্ফোরণের পর নষ্ট হয়ে যাওয়া কাটিং মেশিন সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ দেখে মনে হচ্ছে এগুলি সব হাতে তৈরি করা হয়েছে। তবে এখনই পরিষ্কার করে কিছু বলা যাচ্ছে না। খুব শীঘ্রই এই ঘটনার রিপোর্ট রাজ্য প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এদিন দুপুরে পিপিই কিট পরে ফরেনসিক দলের দুই বিশেষজ্ঞ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বিস্ফোরণের জায়গা যন্ত্রাংশ খুঁটিনাটি পরীক্ষা করে দেখছিলেন।
সেই সময় হঠাৎই মৃদু বিস্ফোরণে ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা কারখানা চত্বর। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ফরেনসিক দলের দুই বিশেষজ্ঞ বলেও সূত্রের খবর। তবে এই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় নি। এদিকে এদিন প্লাস্টিক কারখানা পরিদর্শনে আসেন মোথাবাড়ি তৃণমূল দলের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন , সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রে কোডিনেটর অম্লান ভাদুরি, কালিয়াচক ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি রুহুল বিশ্বাস সহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

Post a Comment