প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন মালদা শহর, জল বাড়ছে গঙ্গা- মহানন্দার
দি নিউজ লায়ন ; বুধবার দুপুর থেকে কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়লো মালদা শহরের প্রাণকেন্দ্র ফোয়াড়া মোড়, অতুল মার্কেট সহ একাধিক এলাকা। বিনয় সরকার রোড থেকে শুরু করে চিত্তরঞ্জন মার্কেট, নেতাজি পুরো মার্কেটে এক হাঁটু জল জমে যায়। ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য বাবলা সরকার বলেন, নিকাশি নালার সংস্কারের ক্ষেত্রে ২৯ টি ওয়ার্ডের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
সেই টাকায় কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে যেখানে জল জমছে জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে পাম্প মেশিন চালিয়ে সেই জল নিকাশি করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকেই দফায় দফায় মালদা জেলা জুড়ে অঝোরে চলছে বৃষ্টিপাত। বুধবারও ব্যাপক বৃষ্টি হয়। আর কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে গোটা মালদা শহর। বিবেকানন্দ পল্লী, রামকৃষ্ণপল্লী, বিনয় সরকার রোড , সুভাষপল্লী, দেশবন্ধু পারা মালঞ্চপল্লী , নেতাজী কলোনি সহ একাধিক অভিজাত এলাকায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টির জেরে ঘরবন্দী হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।
এদিন বৃষ্টিতে জলবন্দি মালদা মেডিকেল কলেজের একাংশ রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবার বৃষ্টির জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আবার বুধবার কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জল ঢুকে ভেসে গিয়েছে। মালদা শহরের আরেক আভিজাত্য এলাকা হিসেবে পরিচিত এক নম্বর গভমেন্ট কলোনি। এই এলাকায় এত সংখ্যক ফ্ল্যাট হয়েছে যে সাধারণ মানুষের কাছে এলাকাকে ফ্লাটবাড়ি পাড়া বলেই পরিচিত। বুধবারের বৃষ্টিতে এই এলাকায় কোথাও এক হাঁটু আবার কোথাও এক কোমর জল জমে যায়। বিভিন্ন ফ্ল্যাটের গ্যারেজ ঘরগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা জেলায় এবার রেকর্ড সংখ্যক বৃষ্টি হয়েছে। জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৪২০ মিলিমিটার। কিন্তু চলতি বছর এখনো পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১৬৭৭ মিলিমিটার। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় আড়াইশো মিলিমিটার বেশি। গত মঙ্গলবার এবং বুধবার দুদিনের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় দেড়শো মিলিমিটার। এই অবস্থায় এখন মালদার মহানন্দা, ফুলাহার এবং গঙ্গা নদীর জল নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে।
ইতিমধ্যে মহানন্দা নদীর জল অতিরিক্ত বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এদিকে মালদা শহরের জল জমার সমস্যার বিষয়ে ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারপার্সন নিহার ঘোষ বলেন , শহরের জল যদুপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোদরাইল ব্রিজ এলাকা দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু সেই জায়গায় একাংশ ভরাট হওয়ার কারণেই কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এব্যাপারে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেসব জায়গায় বৃষ্টির জল জমে নিকাশি হতে পারছে না। সেগুলো জায়গায় পাম্প মেশিন চালিয়ে জল নিকাশির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Post a Comment