হাতির হামলায় কেউ মারা গেলে পরিবারের একজনকে চাকরি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর - The News Lion

হাতির হামলায় কেউ মারা গেলে পরিবারের একজনকে চাকরি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর




দি নিউজ লায়ন ;   হাতির হামলায় কেউ প্রাণ হারালে তাঁদের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর বিদ্যাসাগর শিল্প তালুকে পশ্চিমমেদিনীপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠক  করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় হামেশাই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে হানা দেয় হাতির পাল।


 হাতির হানায় যেমন সম্পত্তিহানি হয়, তেমনই প্রাণহানিও হয়। এবার থেকে এভাবে হাতির হামলায় কেউ মারা গেলে তাঁর পরিবারের একজনকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন হাতির হামলায় কেউ মারা গেলে তাদের পরিবারের একজনকে স্পেশাল হোম গার্ডের চাকরি দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে তিনি বলেন হাতির দল যাতে ফসলের ক্ষতি কম করে এবং প্রাণহানির ঘটনা না ঘটায় তার জন্য বন দফতর কে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।


প্রতিবছর পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম  জেলায় বেশ কিছু মানুষের মৃত্যু হয় হাতির হামলায়।যার ফলে সেই পরিবারগুলি অসহায় হয়ে পড়েন। তাই সেই পরিবারগুলির মুখের দিকে তাকিয়ে মানবিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর শিল্প তালুকের প্রশাসনিক বৈঠকে ঘোষণা করলেন এবার থেকে হাতির হামলায় মারা গেলে তাদের পরিবার এর একজনকে চাকরি দেওয়া হবে। যার ফলে খুশি জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা।


 মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন যে হাতি লোকালয়ে ঢুকে ঘরবাড়ি ও ফসলের যাতে ক্ষতি করতে না পারে সেদিকেও নজর রাখতে হবে বনদপ্তর কে। তিনি আরো বলেন যে অনেক সময় হাতি মাঠে গিয়ে  যেমন ফসলের ক্ষতি করে তেমনি হাতি তাড়াতে গিয়েও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে  তাই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। এর আগে মুখ্যমন্ত্রীকে হাতির হামলায় মৃতের পরিবারএর এক জন কে চাকুরী দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন শাল বণির বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো।সেই দাবির কথা মাথায় রেখে বিষয়টি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানা যায়।


 শ্রীকান্তমাহাতো বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতির হামলায় মৃতের পরিবার কে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করায় তিনি কার্যত খুশি ।কারণ তিনিই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ওই দাবির কথা মুখ্যমন্ত্রী কে জানিয়েছিলেন। প্রশাসনিক বৈঠক তিনি বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক সতর্কবার্তা দেন। করোনা মোকাবিলায় আক্রান্তরা বাড়িতে থাকলেও মাস্ক পরবেন। তিনি আরো বলেন যে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পুজোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিন দিন খোলা রাখতে হবে মঞ্চের এবং প্রতিটি মানুষ যাতে মাস্ক ব্যবহার করে পুজো মণ্ডপে যায় সে ব্যাপারেও পূজা কমিটির উদ্যোগ নিতে হবে। 


১০ বছরের যেসব পুজো হয়েছে সেই সমস্ত পুজোর অনুমতি দিতে হবে এবং তারাও ৫০ হাজার টাকা করে সাহায্য পাবে। তিনি আরো বলেন যে অনুদান নিয়ে যেন কোন কথা শুনতে না হয়। যেন আমরা ওরা না হয়। প্রতিটি ক্লাব যাতে অনুদান পায় সে ব্যাপারেও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন বিভিন্ন এনজিও কাজ করতে চায় তাদের সহযোগিতা করতে হবে এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। সারা ভারত বর্ষ থেকে থেকে চাকরি পায় শুকিয়ে যাচ্ছে সেই ক্ষেত্রে বাংলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  শালবনি ব্লকের কর্ণগড় মন্দির এর  উন্নয়নের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। সেই সঙ্গে ক্ষুদিরামের জন্মস্থান কেশপুরের মোহাবনি সংস্কার ও সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দেন ।তিনি আরো বলেন যে ক্ষুদিরামের জন্মস্থান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আগামী দিনে গড়ে উঠবে। 


পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিদ্যাসাগর এর জন্মস্থান  বীরসিংহ কে যে ভাবে হিসাবেপর্ষদ গঠন করা হয়েছে ঠিক সেইভাবেই মোহাবনির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখোপাধ্যায়ঘোষণা করেন। প্রশাসনিক বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজীব সিনহা সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিক রা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র,সাংসদ মানস ভুঁইয়া,দীপক অধিকারী ওরফে দেব,জেলা শাসক রেশমী কোমল,পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার,জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরাও সহ সভাধিপতি অজিত মাইতি,জেলার বিধায়ক  ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিক গণ।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.